বর্ধমান জেলায় প্রায় ৯০ জন এইচআইভি পজিটিভ, তার মধ্যে ৩০ জনই উচ্চশিক্ষিত। ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণই কি বাড়াচ্ছে সংক্রমণ?

এইচআইভি (প্রতীকী ছবি)
শেষ আপডেট: 10 February 2026 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলাজুড়ে বাড়ছে এইচআইভি (HIV) আক্রান্তের সংখ্যা। তার বড় অংশই বর্ধমান শহরের বাসিন্দা—এমনই উদ্বেগজনক তথ্য দিল জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দফতর (Public Health Department)। পরিসংখ্যান বলছে, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৯০ জন এইচআইভি পজিটিভ। ছ’-এর দশকে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এ ভাবে হঠাৎ এত সংখ্যায় আক্রান্ত বাড়ার ঘটনা বিরল। তার মধ্যে শুধু বর্ধমান শহরেই আক্রান্ত ৩০ জন। সকলেই যুবক, উচ্চ শিক্ষিত এবং অভিজাত পরিবারের। প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ (Risky Sexual Behaviour) এবং সমকামিতার (Homosexuality) মাধ্যমেই সংক্রমণ আচমকা বেড়েছে।
জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দফতরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় (Biswanath Roy) এ দিন বলেন, “জেলাজুড়ে এখনও প্রায় ৯০ জন এইচআইভি পজিটিভ রয়েছেন। বর্ধমান শহরেই আক্রান্ত ৩০ জন যুবক। সকলে উচ্চ শিক্ষিত এবং প্রতিষ্ঠিত পরিবারের ছেলে। এই বছরের পরিস্থিতি আগের থেকে আলাদা। যৌনপল্লিতে সচেতনতা কর্মসূচি নিয়মিত চালানো হয় ঠিকই, কিন্তু এ বার সমকামিতার মাধ্যমেও সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।”
কিন্তু কী ভাবে একসঙ্গে এতগুলো আক্রান্তের হদিস মিলল? স্বাস্থ্য দফতর (Health Department) সূত্রে জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি এক যুবক দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর একাধিক মেডিক্যাল টেস্ট (Medical Tests) করান। তার মধ্যে ছিল এইচআইভি পরীক্ষা-ও। তাতেই সামনে আসে তাঁর সংক্রমণ। এরপর সেই যুবকের ঘনিষ্ঠমহলে থাকা বেশ কয়েকজনেরও পরীক্ষা করানো হলে পরপর ধরা পড়ে সংক্রমণ—যা নজিরবিহীন। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, আকস্মিক নয়, এর নেপথ্যে থাকতে পারে বড়সড় যৌনচক্র (Sex Network)।
যদিও পরিস্থিতি সামলাতে প্রস্তুত স্বাস্থ্য দফতরই বলছে। কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়ের দাবি, “কিছু এলাকায় সংক্রমণ বাড়লেও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। যাঁদের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তাঁদের পরিচয় গোপন রেখেই চিকিৎসা (Treatment) চলছে।” পাশাপাশি বিশেষজ্ঞেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এইচআইভি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। নিরাপদ যৌন আচরণ (Safe Sex), নিয়মিত স্ক্রিনিং (Regular Screening) এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসাই সংক্রমণ কমানোর উপায়।
স্বাস্থ্য কর্তাদের মতে, এহেন বাড়ন্ত সংক্রমণ শুধু সংখ্যার হিসেব নয়—এটি সমাজের যৌন আচরণের পরিবর্তন, সচেতনতার ঘাটতি এবং চিকিৎসার প্রতি অবহেলার এক যৌথ প্রতিফলন। তাই জরুরি সতর্কতা, স্বচ্ছ তথ্যপ্রচার এবং নিয়মিত পরীক্ষা। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, শহরের একাধিক এলাকায় সচেতনতা অভিযানের মাত্রা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ যৌন অভ্যাসে জড়িত যে কোনও ব্যক্তিকে দ্রুত স্বেচ্ছায় পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।