পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত এইচআইভি পজিটিভ (HIV Positive)। ২০১২ সালে এক হামলার মামলায় জেলে থাকার সময়ে ওই রোগে আক্রান্ত হন তিনি।

মন্দিরে চুরি করছেন যুবক
শেষ আপডেট: 30 August 2025 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় এক দশক ধরে ছত্তীসগড়ের (Chhattisgarh) দুর্গ শহর ও তার আশপাশের মন্দিরগুলির প্রণামী বাক্স (donation boxes) থেকে টাকা গায়েব হচ্ছিল (Man Robs Chhattisgarh Temples)। কখনও তালা ভেঙে, কখনও গোপনে ঢুকে লুট করা হচ্ছিল নগদ। অবশেষে বৃহস্পতিবার ধরা পড়ে সেই ‘অদৃশ্য চোর’। অভিযুক্ত ৪৫ বছরের ওই ব্যক্তি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, এ সবই নাকি ‘‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ’’ (act of revenge against god)।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত এইচআইভি পজিটিভ (HIV Positive)। ২০১২ সালে এক হামলার মামলায় জেলে থাকার সময়ে ওই রোগে আক্রান্ত হন তিনি। দাবি করেছেন, ‘‘কোনও অপরাধ না করেও ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই আমি এই রোগে আক্রান্ত। তাই ঈশ্বরকেই শায়েস্তা করার জন্য মন্দির থেকে টাকা চুরি করতাম।’’
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্গ ও আশপাশের অন্তত ১০টি মন্দিরে তিনি চুরির কথা স্বীকার করেছেন। তবে সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অভিযুক্তের ধরন ছিল প্রায় একই— শুধুমাত্র দানবাক্স থেকে নগদ টাকা নিতেন, কোনও গয়না ছুঁতেন না। চুরির আগে ও পরে জামা-কাপড় বদলে ফেলতেন। চেনা জুপিটার স্কুটার দূরে রেখে সংকীর্ণ গলি ধরে বেরিয়ে যেতেন যাতে সিসিটিভিতে ধরা না পড়েন।
তদন্তকারীরা জানান, ২৩-২৪ অগস্ট রাতে দুর্গ শহরের উপকণ্ঠে একটি জৈন মন্দিরে চুরি হয়। পরের দিনই অভিযুক্তকে জেরা করতে তুলে আনে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া ১,২৮২ টাকা ও স্কুটার। দুর্গ পুলিশের এসএসপি বিজয় আগরওয়ালের নির্দেশে গঠিত টিম সিসিটিভি ফুটেজ, ‘ত্রিনয়ন’ অ্যাপ ও গোপন সূত্রের সাহায্যে তাঁর গতিবিধি ট্র্যাক করে। একাধিকবার জামা বদলানো ও গলিপথ ব্যবহার সত্ত্বেও পুলিশের জালে ধরা পড়েন তিনি।
২০১২ সালে জেল থেকে বেরোনোর পর থেকেই মন্দিরগুলিতে চুরির নেশা চেপেছিল তাঁর মাথায়। পুলিশের দাবি, প্রতিবারই তিনি আগে মন্দিরের রেকি করতেন, পরের দিন চুরির ছক কষতেন। বাড়ি ফেরার পথে জামা বদলে নিশ্চিন্তে মিলিয়ে যেতেন।
দুর্গ সিটির এসপি সত্যপ্রকাশ তিওয়ারির বক্তব্য, ‘‘ওই ব্যক্তি বিশ্বাস করতেন, জেলেই নাকি সংক্রমিত বিছানা থেকে সে এইচআইভি আক্রান্ত হন। নিজের অপরাধ না থাকলেও ঈশ্বর তাঁকে শাস্তি দিয়েছেন মনে করে ক্রমে ক্ষোভ জমতে থাকে। তাই ভক্তদের দেওয়া টাকা নিয়েই সংসার চালাতেন, বলতেন— এটাই তাঁর প্রতিশোধ।’’
বর্তমানে তাঁকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।