দ্য ওয়াল ব্যুরো : ১২০ নয় ৮০। এক্সপ্রেসওয়েতে (Expressway) সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালানো যাবে। ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার নোটিশ দিয়ে বলে, এবার থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালাতে অনুমতি দেওয়া হল। তার আগে সেখানে সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালানো যেত। কিন্তু বুধবার হাইকোর্ট গাড়ির গতিবেগ কমাতে বলেছে।
পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই স্থির করা হয়েছে, ন্যাশনাল হাইওয়েতে বাণিজ্যিক গাড়ির সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার। স্টেট হাইওয়েতে ওই গতিবেগ হবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার। শহুরে এলাকায় সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ' প্রকল্পের পরে এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার বলেছিল, কোনও রাস্তায় গাড়ির গতিবেগ কত হবে, তা স্থির করবে বিশেষজ্ঞদের কমিটি। পরিকাঠামোর অবস্থা ও প্রযুক্তির কথা বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞরা স্থির করবেন, গাড়ির সর্বোচ্চ গতিবেগ কত হওয়া উচিত। কিন্তু মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি টি ভি তামিলসেলভি এবং বিচারপতি এন কিরুবাকরনকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ এই অবস্থান মানতে রাজি হয়নি। বিচারপতিদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে গাড়ির গতিবেগ বেশি হওয়ার জন্যই দুর্ঘটনা হয়। তাঁরা বলেন, "অত্যধিক দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোর জন্যই দুর্ঘটনা ঘটে। পরিকাঠামো বা প্রযুক্তির উন্নতি কীভাবে দুর্ঘটনা কমাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।" বিচারপতিদের মতে, গাড়ির প্রযুক্তি যত উন্নত হয়, তত বেশি জোরে গাড়ি চালানো যায়। এর ফলে দুর্ঘটনা বাড়ে।
হাইকোর্ট বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত স্পিড গান, স্পিড ইন্ডিকেশন ডিসপ্লে এবং ড্রোন ব্যবহার করে ট্রাফিক আইনভঙ্গকারীদের চিহ্নিত করা।
বিচারপতিরা বলেন, "পথে যারা আইনে ভাঙে তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। হাই স্পিডের গাড়িতে এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত যাতে তা অত্যধিক গতিতে না চালানো যায়।"
কয়েক বছর আগে পথ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ৯০ শতাংশ পঙ্গু হয়ে গিয়েছেন এক মহিলা ডেন্টিস্ট। হাইকোর্ট তাঁকে বাড়তি ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়। এর আগে একটি ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ১৮.৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছিল। হাইকোর্ট বলেছে, ক্ষতিপূরণ বাবদ দিতে হবে দেড় কোটি টাকা।
২০১৩ সালে ওই মহিলা টু হুইলারে চড়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় এমটিসি-র একটি বাস অত্যধিক গতিতে এসে তাঁকে ধাক্কা মারে। মাদ্রাজ হাইকোর্ট এদিন বলে, ট্রাফিক আইনভঙ্গকারীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বিশেষ আদালত গঠন করা উচিত।