অঙ্গ চুরির মামলায় নয়া মোড়, মহিলার মৃত্যুর পাঁচ মাস পরে ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ হাইকোর্টের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা রোগীর অঙ্গ বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল কলকাতার মিডল্যান্ড নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। চিকিৎসার গাফিলতিতে ওই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগও ছিল। পরিবার দাবি করেছিল, রোগীর দেহের প্রথমবার ময়নাতদন্তের পরে হাসপাতালে যে রিপোর্ট দিয়েছিল তাতে অন
শেষ আপডেট: 5 October 2021 09:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা রোগীর অঙ্গ বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল কলকাতার মিডল্যান্ড নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। চিকিৎসার গাফিলতিতে ওই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগও ছিল। পরিবার দাবি করেছিল, রোগীর দেহের প্রথমবার ময়নাতদন্তের পরে হাসপাতালে যে রিপোর্ট দিয়েছিল তাতে অনেক অসঙ্গতি আছে। এমনকি রোগীর শরীরে এমন কিছু চিহ্ন মিলেছে যার থেকে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। পরিবারের তরফে ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় কলকাতা হাইকোর্টে (High Court)। সেই মামলার রায়ে মহিলার মৃত্যুর প্রায় পাঁচ মাস পরে ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিল হাইকোর্ট।
গত বছর ২২ এপ্রিল করোনা সংক্রমণ নিয়ে মিডল্যান্ড নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন কাকলি সরকার। ২৫ তারিখ তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেদিনই এক নার্স তাঁকে একটি ইঞ্জেকশন দেন। তার কিছুক্ষণ পরই মৃত্যু হয় কাকলির। পরিবার আরও দাবি করে, মৃত্যুর ঠিক আগে নাকি কাকলি অভিযোগ করেছিলেন ওই নার্সিংহোমে অঙ্গ পাচারকারীদের একটা বড় চক্র কাজ করছে। এরপর কাকলির অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য কমিশনের দ্বারস্থ হয় পরিবার। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয় কমিশন।
নার্সিংহোমে ঠিক ঘটনা ঘটতে পারে তার বিবরণ আদালতকে দিয়েছিলেন মৃতার পরিবারের আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, নার্সিংহোমে ভর্তি থাকার সময় একদিন কাকলিদেবীর ভাইকে ফোন করে বলা হয়, তাঁর দিদির অবস্থা গুরুতর। সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে ছুটে যান তিনি। দেখেন, কাকলিদেবীকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তিনি আইসিইউতে ঢুকলে কাকলিদেবী তাঁর ভাইকে বলেন, হাসপাতালে একটি র্যাকেট চলছে। সমস্ত মৃত রোগীদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। কাকলিদেবী যখন তাঁর ভাইকে এসব কথা বলছিলেন তখন একজন নার্স এসে তাঁকে ইঞ্জেকশন দেন। অভিযোগ, এর পরেই মৃত্যু হয় রোগীর।
পরিবার ময়নাতদন্তের দাবি জানায়। মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টে। মামলা ওঠে বিচারপতি রাজশেখর মান্থার এজলাসে। আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণবাবু বলছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয় মুখে গ্যাঁজলা উঠে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এমনকি রোগীর শরীরে এমনকিছু ক্ষত চিহ্ন ও সেলাইয়ের দাগ পাওয়া গেছে যা করোনায় মৃত রোগীর শরীরে থাকা সম্ভব নয়। এরপরেই সন্দেহ হয় পরিবারের। করোনায় মৃত্যু হলে কী ধরনের অস্ত্রোপচার করে সেলাই করা হয়েছে তা জানতে চায় মৃতের পরিবার।
কাকলিদেবীর দেহ এখন সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছে। পরিবারের বক্তব্য, ওই দেহ আদৌ কাকলিদেবীর কিনা তা জানতে ফের ময়নাতদন্ত করা হোক। মামলার পিটিশনে বলা হয়েছে, ৩০২ ধারায় মামলার তদন্ত হোক। বেলঘড়িয়া থানা নয় বরং সিআইডি বা অন্য কোনও তদন্ত সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো হোক। ফের একবার ডিএনএ পরীক্ষা করানো হোক। বিচারপতি রাজশেখর মান্থার বেঞ্চ জানিয়েছে, দ্বিতীয়বার রোগীর দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের তিনজন অভিজ্ঞ ডাক্তারকে দিয়ে ময়নাতদন্ত করিয়ে রিপোর্ট আদালতে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৃতের শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আছে কিনা বা কোনও অঙ্গ বদলে ফেলা হয়েছে কিনা, তাও দেখার জন্য এই বিশেষ দলকে নির্দেশ দিয়েছ আদালত।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'