
কলকাতা হাইকোর্ট।
শেষ আপডেট: 15 November 2024 17:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্মশানকালী মন্দিরের জমি বেআইনিভাবে দখল করে নেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন এক যুবক। অভিযোগ, পুলিশকে জানিয়েও লাভ হয়নি। এমনকী প্রাণে মারে ফেলার চেষ্টায় তৃণমূলের স্থানীয় নেতা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর দুই জওয়ান জড়িত থাকায় পুলিশ মামলাটিকে লঘু করে দিয়েছিল।
বিচার পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের আক্রান্ত যুবক। শুক্রবার ওই মামলাতেই পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর দুই জওয়ান-সহ অভিযুক্ত ৬জনের জামিন খারিজের পাশাপাশি গোটা ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেছে আদালত।
আদালত সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদ জেলার সরবঙ্গপুর গ্রামে রয়েছে ১০০বছরের শ্মশানকালীর মন্দির। পাশেই একটি প্রাথমিক স্কুলও রয়েছে। সেই স্কুলের কচিকাঁচারা মন্দিরের মাঠে খেলাধুলা করে। অভিযোগ, স্থানীয় উদয় মণ্ডল ও পূর্ণিমা মণ্ডল শাসক দলের ঘনিষ্ট হওয়ার সুবাদে ওই জমি বেআইনি ভাবে পাট্টা করিয়ে দখল করে নেয়।
১০০ বছরের মন্দিরের জমি এভাবে দখল হচ্ছে দেখে গ্রামবাসীরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করেন। মামলাকারীদের মধ্যে একজন সৌরভ দত্ত গত ১৯ অক্টোবর মাঠে কৃষি কাজ করতে গেলে জমি দখলকারীরা তাকে ঘিরে ধরে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। হামলাকারীদের মধ্যে দু'জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানও ছিল।
হামলার জেরে সৌরভের হাত ভেঙে যায় ও মাথায় গুরুতর আঘাত পান। ১৭ দিন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছেন। পুর ঘটনা উল্লেখ করে নওদা থানায় অভিযোগ জানাতে যায় গ্রামবাসীরা।
মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী আশিস চৌধুরী আদালতকে জানান, অভিযুক্তরা শাসক দলের ঘনিষ্ট হওয়ায় থানা প্রথমে অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। মামলাকারী সৌরভ দত্ত হাসপাতাল থেকে ফিরে মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানায়। এসপি নওদা থানাকে নির্দেশ দেন নিরপেক্ষ তদন্ত করার। তারপরও পুলিশ অভিযুক্তদের হয়ে মামলাকে লঘু করে। এমনকী হামলাকারীরা হুমকি দিলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি।
ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা তীব্র নিন্দা করে আদালত অভিযুক্ত দুই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান-সহ ৬জনের জামিন নাকচের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের কোনও প্রতিক্রিয়া অবশ্য জানা যায়নি।