আসলে সোমবার থেকে একটানা বৃষ্টিতে কংসাবতী, দারকেশ্বর, গন্ধেশ্বরী, শিলাবতী, সুবর্ণরেখা-সহ একাধিক নদীর জলস্তর বেড়েই চলেছে। কোথাও কোথাও নদী উপচে এলাকায় ঢুকেছে জলও। আচমকা এই দুর্যোগ পরিস্থিতির জেরে উদ্বিগ্ন প্রশাসনও।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 July 2025 09:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে (West Bengal) বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাই বজায় থাকতে চলেছে। বুধবারের মতো বৃহস্পতিবারও রাজ্যের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা (Rainfall Forecast) জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Weather Office)।
হাওয়া অফিস বলছে, দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান এবং উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা ও শহরতলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। এখনই পরিষ্কার আকাশের কোনও সম্ভাবনা নেই।
দক্ষিণবঙ্গের (South Bengal) বেশিরভাগে জেলায় ৭-২০ সেমি পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে, যা অতিভারী বৃষ্টির মাত্রায় পড়ে। ঝাড়গ্রাম, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে ৩০-৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টার গতিতে। সঙ্গে চলতে পারে বজ্রপাত।
উত্তরবঙ্গের (North Bengal) কালিম্পং সহ দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও মালদাতে সপ্তাহ জুড়ে চলবে ভারী বৃষ্টি। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। নদীর জলস্তর বেড়ে বন্যা পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে নতুন করে। তাই স্থানীয়দের তো বটেই, পর্যটকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে আবহবিদরা।
সমুদ্রে সতর্কতা
আগামী ২৪ ঘণ্টায় ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ৫৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। উত্তাল থাকবে উত্তরের বঙ্গোপসাগর। সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে মৎস্যজীবীদের জন্য।
কয়েকদিন টানা বৃষ্টির ফলে সুন্দরবনের একাধিক জায়গায় নদী বাঁধ দুর্বল হয়ে রয়েছে। জলোচ্ছ্বাস হলে নদী বাঁধ ভেঙে জল ঢুকতে পারে এলাকায়। সেই কারণে ইতিমধ্যে প্রশাসনের তরফ থেকে নজর রাখা হয়েছে দুর্বল নদী বাঁধ গুলির ওপর।
গঙ্গাসাগরে কপিল মুনির আশ্রমের সামনে সমুদ্র সৈকতে সাগর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা মাইকিং করছেন। মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্র থেকে ফিরে আসার কথা বলা হচ্ছে এবং পুণ্যার্থীদের সমুদ্রের নামার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে চলবে বৃষ্টি ও ঝড়বৃষ্টির দাপট। ফলে প্রশাসনের তরফে রাজ্যবাসীকে সতর্ক ও সচেতন থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আসলে সোমবার থেকে একটানা বৃষ্টিতে কংসাবতী, দারকেশ্বর, গন্ধেশ্বরী, শিলাবতী, সুবর্ণরেখা-সহ একাধিক নদীর জলস্তর বেড়েই চলেছে। কোথাও কোথাও নদী উপচে এলাকায় ঢুকেছে জলও। আচমকা এই দুর্যোগ পরিস্থিতির জেরে উদ্বিগ্ন প্রশাসনও।