উত্তরবঙ্গে শুরু হয়েছে টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কা। দক্ষিণবঙ্গে মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টি। নিচু এলাকায় প্লাবনের সম্ভাবনা থাকছে।

বাংলায় বর্ষা আসছে।
শেষ আপডেট: 21 June 2025 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিম্নচাপের ছায়া ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে একটানা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে রাজ্যের নানা প্রান্তে। একদিকে উত্তরের পাহাড়ি জেলাগুলোয় শুরু হয়েছে বৃষ্টির দাপট, অন্যদিকে দক্ষিণে তৈরি হচ্ছে বৃষ্টির অপেক্ষা, যে কোনও মুহূর্তে নেমে আসতে পারে দুর্দান্ত বর্ষণ।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বিহারে অবস্থানরত নিম্নচাপটি ক্রমশ শক্তি হারাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই নিম্নচাপের সঙ্গে দুটি অক্ষরেখা যুক্ত রয়েছে। একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা পাকিস্তান থেকে শুরু হয়ে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ হয়ে বিহারের নিম্নচাপ অঞ্চল অতিক্রম করে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও অসম পর্যন্ত বিস্তৃত।
অপর একটি অক্ষরেখা উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ থেকে গুজরাত পর্যন্ত বিস্তৃত, যা বিহারের নিম্নচাপের উপর দিয়েই গেছে। মৌসুমী অক্ষরেখা বর্তমানে আগরা ও জয়পুর হয়ে মানালি পর্যন্ত ছড়ানো। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী সপ্তাহে উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হতে পারে, যার প্রভাবে উপকূল ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় শনিবার পর্যন্ত তুলনামূলক স্বস্তি থাকবে। আগামী দু’তিন দিন বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকবে এবং শনিবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে রবিবার থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে পারে। ওই দিন বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি গতিবেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে।
কলকাতা ও অন্যান্য জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিমি গতিবেগে ঝড় হতে পারে। সোমবারের চিত্রও প্রায় একই রকম। নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঝড়ের গতি ৫০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, কলকাতাসহ অন্যান্য জেলায় থাকবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া।
সপ্তাহের মাঝামাঝি, অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে ঘনঘন দমকা হাওয়া বইবে ৩০ থেকে ৫০ কিমি গতিতে। মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে।
বুধবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে। বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলার জন্য।
উত্তরবঙ্গে শনিবার থেকেই শুরু হবে বৃষ্টির প্রকোপ। মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে এই পরিস্থিতি। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলাগুলিতে শনিবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার ও মালদাতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পরদিন মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
উত্তরবঙ্গে চলমান ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি এলাকাগুলিতে বিশেষত দার্জিলিং ও কালিম্পং-এ ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের মতো নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে প্লাবনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গেও অনেক নদীর জলস্তর ইতিমধ্যেই বিপদসীমার ওপরে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার থেকে ফের ভারী বৃষ্টি শুরু হলে নিচু অঞ্চলগুলো আরও বেশি করে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।