দ্য ওয়াল ব্যুরো : কেন্দ্রীয় সরকার সেই কবে থেকে প্রচার করছে, হাম দো হামারা দো। দু’টির বেশি সন্তান যেন কারও না হয়। নইলে দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। কিন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণের নীতির ঠিক বিপরীত পথে গিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু রাজ্যের মানুষকে পরামর্শ দিলেন, আরও বেশি সন্তানের জন্ম দিন। অন্ধ্রের রাজধানী অমরাবতীতে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
মানুষ যাতে আরও বেশি সন্তানের জন্ম দিতে উৎসাহী হয়, সেজন্য ‘সচেতনতা’ সৃষ্টি করবেন বলে জানিয়েছেন চন্দ্রবাবু। তাঁর কথায়, এখনকার দিনে যুবক-যুবতীরা বিয়ে করতে চায় না। যদি তারা বিয়ে করতে রাজি হয়ও, তাহলে সন্তানের জন্ম দিতে চায় না। এটা এক বিপজ্জনক প্রবণতা। তাঁর মতে, আমাদের পরিবারগুলিই দেশের গর্ব। আমাদের উচিত পরিবারকে রক্ষা করা। আমাদের বার বার মানুষকে বোঝাতে হবে, কেন সন্তানসন্ততির জন্ম দেওয়া উচিত।
একসময় অন্ধ্র সাফল্যের সঙ্গে জন্মনিয়ন্ত্রণের নীতি কার্যকর করে সকলকে চমকে দিয়েছিল। মাত্র ১০ বছরে রাজ্যে জন্মহার হয়েছিল অর্ধেক। কিন্তু ২০১৫ সালেই আরও বেশি সন্তানের জন্ম দেওয়ার কথা বলেছিলেন চন্দ্রবাবু নাইডু। সেবার মহিলাদের এক সেলফ হেলপ গ্রুপের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, চিন, জাপান এবং ইউরোপের বহু দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছে না। তাদের কাছে এটা এক বিরাট সমস্যা। সেদিক থেকে ভারত সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। কিন্তু আগামী দিনে এদেশেও জনসংখ্যা কমতে পারে। এখনই দেশে মৃত্যুহারের থেকে জন্মহার কম।
একসময় যে দম্পতির দু’টির বেশি সন্তান আছে তাদের পঞ্চায়েত ভোটে লড়তে দেওয়া হত না। সেকথা উল্লেখ করে চন্দ্রবাবু বলেন, এখন ওই নিয়ম তুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা মানুষকে আরও বেশি সন্তানের জন্ম দেওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছি। কোনও দম্পতির যদি চারটি সন্তান হয়, তাহলেও ক্ষতি নেই।
ভারত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ। ২০১৭ সালের হিসাবমতো বর্তমানে দেশের লোকসংখ্যা ১৩০ কোটির কিছু বেশি। জনসংখ্যা যত বেশি হয়, ততই সকলের মুখে খাদ্য যোগানো কঠিন হয়ে ওঠে। জমি, বাস্তুতন্ত্র ও সবরকম পরিকাঠামোর ওপরে চাপ পড়ে অত্যধিক। ফলে নানা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। সেজন্যই আধুনিক রাষ্ট্রে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা হয়। কিন্তু চন্দ্রবাবু চাইছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাক।