বাংলা ভাষায় কথা বলাই কি ‘অপরাধ’? শুধুমাত্র সেই ভাষা বলার জন্যই কি কেউ হয়ে উঠবেন ‘বাংলাদেশি’? এ প্রশ্নই ফের সামনে এল হুগলির এক পরিযায়ী শ্রমিকের অভিজ্ঞতায়।

দেবাশিস দাস।
শেষ আপডেট: 12 July 2025 09:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা ভাষায় কথা বলাই কি ‘অপরাধ’? শুধুমাত্র সেই ভাষা বলার জন্যই কি কেউ হয়ে উঠবেন ‘বাংলাদেশি’? এ প্রশ্নই ফের সামনে এল হুগলির এক পরিযায়ী শ্রমিকের অভিজ্ঞতায়।
হুগলির চুঁচুড়া-২ ব্লকের রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা দেবাশিস দাস কাজের সূত্রে (Hooghly workers) গিয়েছিলেন ওড়িশায় (Odisha)। কিন্তু সেখানেই তাঁকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে স্থানীয় পুলিশ (Harassment on the suspicion of 'Bangladeshi')। পরিবারের দাবি, সমস্ত বৈধ নথি দেখানোর পরেও পুলিশ তাঁকে এবং তাঁর সহকর্মীদের ছাড়েনি।
পরিবার সূত্রে খবর, ১৪ জুন একটি বেসরকারি সংস্থার হয়ে ফায়ার সিস্টেমের কাজ করতে ঝারসুগদা জেলায় গিয়েছিলেন দেবাশিস। সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন সহকর্মী। সেখানেই কাজ চলাকালীন হঠাৎ পুলিশ তাঁদের ধরে নিয়ে যায়। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান, পাসপোর্ট, শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র, এমনকি পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট—সব দেখানো সত্ত্বেও আটক রাখা হয় বলে অভিযোগ।
দেবাশিস জানান, তাঁদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। পরিবারের সঙ্গে বা ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার তিনি বাড়ি ফেরেন। কিন্তু ততদিনে মনের ভিতরে জমে উঠেছে আতঙ্ক, ক্ষোভ আর অপমানের গ্লানি।
তিনি বলেন, ‘‘এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না! দেশের ১৪টি রাজ্যে কাজ করেছি। কোথাও এমন ব্যবহার পাইনি। শুধুমাত্র বাংলা বলি বলে আমাদের বাংলাদেশি ভেবে হেনস্থা করা হয়েছে। এবার থেকে সত্যিই আর বাইরে কাজে যেতে সাহস পাচ্ছি না।’’
ছেলের এই অভিজ্ঞতায় ক্ষুব্ধ মা বিভা দাস। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘সব নথি দেখানোর পরেও যদি সন্দেহ না কাটে, তবে আর কী দেখালে হবে? একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে এটা কি আমাদের প্রাপ্য?’’
এই ঘটনাকে ঘিরে ফের নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি ভিন রাজ্যে বারবার এমন হেনস্থা নতুন কিছু নয়। বাংলা ভাষা বললেই 'বিদেশি'—এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সমাজের নানা মহল।