হলফনামায় জানাতে হবে, ওই দুই শ্রমিককে আদৌ গ্রেফতার করা হয়েছিল কি না এবং হেনস্থার অভিযোগ খতিয়ে দেখে ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 23 July 2025 13:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশায় বাংলার শ্রমিকদের হেনস্থার (Harassment of Bengalis) অভিযোগ ঘিরে তুঙ্গে উত্তেজনা। বুধবার এই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) তীব্র বিতর্কে জড়ালেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) ও ওড়িশা সরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেল (Odisha AG)।
বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে চলছিল শুনানি। আদালতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করে বলেন,
“ওড়িশায় প্রায় ৪০০ জন বাঙালি আটকে রয়েছেন। তাঁদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। বাঙালিদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আদালতের বিশেষ নজর প্রয়োজন। আজ গোটা দেশে বাংলা ভাষা বললেই হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে।”
এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন ওড়িশার অ্যাডভোকেট জেনারেল। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “আমরা বাঙালি বিদ্বেষী নই। বাঙালিরা আমাদের ভাই, বোন, মা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আমাদের প্রতিবেশী। ওড়িশার বহু মানুষ পশ্চিমবঙ্গে থাকেন, আবার পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষ ওড়িশাতেও থাকেন। ওড়িশা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিজেও একজন বাঙালি।”
তিনি আরও জানান, মুর্শিদাবাদের সাইনুর ইসলাম সহ দুই বাঙালি শ্রমিককে ইতিমধ্যেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হরিহরপাড়ায় ফিরে গিয়েছেন।
ওড়িশা সরকার এই মামলায় চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেবে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। হলফনামায় জানাতে হবে, ওই দুই শ্রমিককে আদৌ গ্রেফতার করা হয়েছিল কি না এবং হেনস্থার অভিযোগ খতিয়ে দেখে ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে পরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, “এটা আর শুধু এক রাজ্যের ইস্যু নয়। আজ এটা জাতীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলা ভাষা বললেই অন্যান্য রাজ্যে বাঙালিদের অসম্মান, হেনস্থা, এসব মেনে নেওয়া যায় না।”
আগামী ২৯ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি। সেদিন ওড়িশা সরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে সশরীরে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।