নাসার গবেষণায় কাজ করতে যাওয়ার আগে এখন চলছে প্রস্তুতি। ভবিষ্যতে রকেট সায়েন্স, অ্যাস্ট্রো ফিজিক্সে উচ্চতর গবেষণা করতে চায় ইন্দ্রনীল।

ইন্দ্রনীল মণ্ডল।
শেষ আপডেট: 23 July 2025 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ১৭ বছর বয়সেই নাসার গবেষণায় (NASA Research) অংশগ্রহণের বিরল সুযোগ পেল ব্যারাকপুরের (Barrackpore) ইন্দ্রনীল মণ্ডল (Indranil Mondal)। কলকাতার লা মার্টিনিয়ার ফর বয়েজ স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ইন্দ্রনীল এখন সোজা পৌঁছে যাচ্ছে আমেরিকার কেনেডি স্পেস রিসার্চ সেন্টারে। 'মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসবাস সম্ভব কি না', সেই প্রকল্পে গবেষণার অনুমতি মিলেছে তার।
ব্যারাকপুরের মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা ইন্দ্রনীল বরাবরই মেধাবী। ডেটা সায়েন্স ও রকেট সায়েন্সে ছিল প্রবল আগ্রহ। নাসা ও স্পেস-এক্সের মত সংস্থা তার অনুপ্রেরণা। এবার সেই আগ্রহকে মুঠোয় ধরে ইন্দ্রনীল পৌঁছে গেল আন্তর্জাতিক স্তরে।
কীভাবে সুযোগ পেল ইন্দ্রনীল?
নাসার এই গবেষণামূলক প্রোগ্রামে সুযোগ পেতে হয় চারটি কঠিন স্তর পার করে।
রিজিওনাল লেভেল – রাজ্যের স্কুলগুলির মধ্যে প্রাথমিক বাছাই।
ন্যাশনাল লেভেল – দেশের মধ্যে সেরা নির্বাচন।
এশিয়ান লেভেল – আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য এশিয়ার মধ্যে বাছাই।
ইন্টারন্যাশনাল লেভেল – ফাইনাল নির্বাচন এবং গবেষণার অনুমতি।
এ বছরের থিম ছিল “Making Mars Habitable by 2070”। সেই বিষয়ের উপর প্রোপোজাল জমা দিয়ে নির্বাচিত হয় ইন্দ্রনীল। সে জানায়, এই প্রজেক্টে দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করেছে সে।
এই প্রতিযোগিতায় ভারতের বহু স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা অংশ নিলেও, এই বছর একমাত্র ইন্দ্রনীলই নির্বাচিত হয়েছে। এই সাফল্যে খুশির হাওয়া লা মার্টিনিয়ারের অন্দরেও।

ইন্দ্রনীল তার সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছে পরিবারের, বিশেষ করে মা জ্যোতি মণ্ডলের। ইন্দ্রনীল বলেছে, "মায়ের জন্য এতটা করতে পেরেছি। পরিবার ও স্কুল সবসময় পাশে ছিল।"
মা জ্যোতি মণ্ডল আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন,"নাসায় সুযোগ পাওয়া গর্বের। রাত জেগে কাজ করেছে, সকালবেলা স্কুল গিয়েছে। প্রচণ্ড খাটনি করেছে ছেলে। সেই পরিশ্রমই ফল দিয়েছে।"
নাসার গবেষণায় কাজ করতে যাওয়ার আগে এখন চলছে প্রস্তুতি। ভবিষ্যতে রকেট সায়েন্স, অ্যাস্ট্রো ফিজিক্সে উচ্চতর গবেষণা করতে চায় ইন্দ্রনীল। আর চায়, একদিন নিজে নাসার মতো সংস্থায় বৈজ্ঞানিক হিসেবে কাজ করতে।