গত ২৭ মার্চ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শিবিরে এক শিক্ষকের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিল ভারতীয় নির্বাচন কমিশন।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 31 March 2026 20:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে এবার নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপের মুখে নদিয়ার হাঁসখালি ব্লকের বিডিও (Hanskhali BDO)। গত ২৭ মার্চ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শিবিরে এক শিক্ষকের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিল ভারতীয় নির্বাচন কমিশন। শুধু সাসপেনশনই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৭ মার্চ নদিয়ার হাঁসখালি ব্লকের অধীনে রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউশনে (গার্লস অ্যান্ড কো-এড) প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই শিবিরের মাঝেই চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে এক শিক্ষক গুরুতর জখম হন। মাথায় আঘাত নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই ঘটনায় রানাঘাট থানায় এফআইআর-ও দায়ের করা হয়েছিল।
কমিশনের চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ওই প্রশিক্ষণ শিবিরের দায়িত্বে ছিলেন হাঁসখালির বিডিও। কিন্তু তিনি শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে চলতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। কমিশনের মতে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিডিও-র পক্ষ থেকে চরম গাফিলতি ও গুরুত্বহীনতা লক্ষ করা গেছে। অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করার ক্ষেত্রে কমিশনের প্রচেষ্টায় এই ঘটনা একটি কলঙ্ক স্বরূপ।
রাজ্যের মুখ্যসচিবকে লেখা চিঠিতে কমিশন সাফ জানিয়েছে, সায়ন্তন ভট্টাচার্যকে অবিলম্বে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করতে হবে। সেই সঙ্গে এই প্রশাসনিক গাফিলতির জন্য তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে নবান্নকে। বুধবার সকাল ১১টার মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করে তার রিপোর্ট কমিশনকে পাঠানোর চরম সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সকালে রানাঘাটের দেবনাথ ইনস্টিটিউট ফর বয়েজ স্কুলে ভোটের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রতিবাদ করায় বিডিও-র উপস্থিতিতেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়।
সৈকতের কয়েকজন সহকর্মীরও অভিযোগ, প্রশিক্ষণের শুরুতেই প্রোজেক্টরের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ সংক্রান্ত ভিডিও দেখানো হচ্ছিল। এটিকে আচরণবিধি বিরোধী বলে আপত্তি জানানোর পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে তাঁদের দাবি ছিল। অন্যদিকে, হাঁসখালির বিডিও ঘটনার সময় কিছু গোলমালের কথা স্বীকার করলেও, মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছিলেন।
কিন্তু কমিশন যে হাত গুটিয়ে বসে থাকার পাত্র নয়, সেটা ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছে। অভিযুক্ত বিডিও-কে শুধু সাসপেনশনই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।