মঙ্গলবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন লোকনাথ সরণীর বাসিন্দা ৪৫ বছরের বিধান হালদার। জলে ডুবে থাকায় কোনও ডাক্তারকে আনতে পারেননি পরিবারের লোকজন।

মৃত বিধান হালদার
শেষ আপডেট: 27 August 2025 16:08
হাবড়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড। কোমর-সমান জলের নীচে গোটা এলাকা। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দা বিধান হালদার হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়েই বাঁধে বিপত্তি। জল ভেঙে টিউবের ভেলায় করে কোনওরকমে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন প্রতিবেশীরা। ভেলাতেই তাঁর পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। বিধানবাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ওই চিকিৎসক। এই খবর জানাজানি হতেই ক্ষোভ উগরে দেন বাসিন্দারা।
অভিযোগ, হাবড়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লোকনাথ সরণি সহ ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখনও জলমগ্ন। প্রায় প্রত্যেকটা বাড়ির সামনে কোমরসমান জল। জলমগ্ন প্রায় শতাধিক বাড়ি। এইভাবে জল দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় দু'মাস ধরে। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। জল ভেঙে প্রতিদিনের প্রয়োজনে বের হন এলাকার মানুষ। কিন্তু অসুস্থ বিধানবাবুকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন লোকনাথ সরণির বাসিন্দা ৪৫ বছরের বিধান হালদার। জলে ডুবে থাকায় কোনও ডাক্তারকে আনতে পারেননি পরিবারের লোকজন। পড়শিরা এগিয়ে এসে টিউবের ভেলায় করে তাঁকে নিয়ে হাসপাতালে রওনা দেন। পথেই তাঁদের সন্দেহ হয়, আর বেঁচে নেই তিনি। তাই স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। ওই ডাক্তারই মৃত বলে ঘোষণা করেন তাঁকে।
খবর পেয়ে পরিজনরা ছুটে আসেন। কিন্তু বাড়ির সামনে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা যাবেন কী করে? মৃতদেহই বা নিয়ে যাওয়া হবে কী করে! জমা জলের কারণে আর বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়নি তাঁর দেহ। বাড়ির সামনে উঁচু জায়গায় একটি ক্লাবের সামনে তাঁকে শেষ বিদায় জানায় পরিবার।
ঘটনার খবর পেয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বিরোধীরা। তাঁদের প্রশ্ন, জমা জল বের করার জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বুস্টিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছিল, সেটা কী কাজে আসছে?