তৃণমূলের (TMC) ছোট-বড় সব নেতার মুখেই এখন এই নাম। সোমবার কলকাতায় খোদ জ্ঞানেশ কুমারের গলাতেই শোনা গেল সেই উপমা। যা শুনে হাসি চাপতে পারলেন না উপস্থিত দুঁদে আমলারাও।

জ্ঞানেশ কুমার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 9 March 2026 21:32
গত ডিসেম্বর মাস। বাঁকুড়ার জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবার তোপ দেগেছিলেন। অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম ‘ভ্যানিশ’ করে দিচ্ছেন নির্বাচন কমিশনার (election commissioner)। সেই থেকেই জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) নতুন নাম হয়ে গিয়েছে ‘ভ্যানিশ কুমার’ (Vanish Kumar)। তৃণমূলের (TMC) ছোট-বড় সব নেতার মুখেই এখন এই নাম। সোমবার কলকাতায় খোদ জ্ঞানেশ কুমারের গলাতেই শোনা গেল সেই উপমা। যা শুনে হাসি চাপতে পারলেন না উপস্থিত দুঁদে আমলারাও।
কী ঘটেছিল বৈঠকে?
সোমবার সকালে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক সেরে পরে আরও দু'দফায় ভোট প্রস্তুতির আলোচনায় বসেন জ্ঞানেশ কুমার। বৈঠকের মেজাজ তখন বেশ চড়া। সূত্রের খবর, আলোচনার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ মুচকি হাসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। উপস্থিত অফিসারদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা জানেন আমাকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলা হয়?”
মুহূর্তের জন্য থমকে যান সবাই। জ্ঞানেশবাবু থামেননি। বলেন, “এটা কিন্তু সত্যি, মিথ্যে নয়। সংবাদমাধ্যমও এই ভ্যানিশ কুমার নিয়ে অনেক লিখছে। সত্যিই আমাকে এই নামে ডাকা হয়। আমার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগও করা হয়। এমনি এমনি বলছি না এসব কথা।” গম্ভীর পরিবেশে হঠাৎ এই রসিকতায় ঘরের থমথমে ভাব অনেকটাই কেটে যায়। হাসি চেপে রাখতে পারেননি সিইও-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
ঘটনার সূত্রপাত ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে। প্রথম দফায় যখন প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল, তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেজাজ হারিয়েছিলেন। সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলা শুরু করেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এখন মঞ্চে উঠলেই এই নামেই আক্রমণ শানান কমিশনকে।
বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ঘিরে হেনস্থার প্রতিবাদে ধর্নায় বসেছেন মমতা। আজকে নিয়ে চার দিন। এদিনও তিনি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিশ কুমার বলে কটাক্ষ করেন। বলেন, “বেচারা ভ্যানিশ কুমার। তাঁর জন্য আমার খারাপ লাগে। আমি কোনও চেয়ারকে অপমান করছি না। ভ্যানিশ কথাটা ব্যবহার করছি কারণ, কালো লোকেদের ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে হোয়াইট করে দেওয়া হয়। তাই ভ্যানিশ কথাটা ব্যবহার করছি। স্ট্রং ভ্যানিশিং পাউডার। আজকেও আমি শুনলাম, অফিসারদের মিটিং করে হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুধু এখন অ্যাকশন নেবেন তা নয়, যদি ওঁর কথা না শোনেন। মে মাসের পরেও নাকি অ্যাকশন নেবেন। আমি বলি, সাহস থাকা ভাল কিন্তু দুঃসাহস থাকা ভাল নয়।”
এই জ্ঞানেশ-ভ্যানিশ নিয়ে খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের রবিবাসরীয় ‘রগড়’ বুঝিয়ে দিল, দিল্লির এসিতে বসে থাকলেও বাংলার দিদির দেওয়া এই ‘নাম’ তাঁর কানেও পৌঁছে গিয়েছে।