বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যে সমস্ত আপিল ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে - তা অনলাইন বা অফলাইন যেভাবেই হোক, সেগুলির নিষ্পত্তির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলা শাসকের উপর বর্তাবে।
.jpeg.webp)
মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 3 April 2026 20:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে ভোটার তালিকা সংশোধন ও আপিল সংক্রান্ত (Tribunal Appeal) প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি দিল রাজ্যের সিইও দফতর (CEO Office)। জারি হওয়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আপিল কীভাবে গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হবে, তা নিয়ে নতুন করে নির্দিষ্ট নিয়ম চালু করা হচ্ছে।
এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যে সব আবেদন এখনও বিচারাধীন রয়েছে, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা নির্দিষ্ট অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে আপিল জমা দিতে পারবেন। এজন্য নির্দিষ্ট একটি সরকারি পোর্টালের সাহায্য নিতে হবে, যেখানে বিচারাধীন আবেদনকারীদের জন্য আলাদা একটি বিভাগ রাখা হয়েছে।
তবে শুধু অনলাইনেই নয়, অফলাইন পদ্ধতিতেও আপিল জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে জেলা শাসক বা মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। দফতরের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, জমা পড়া সমস্ত নথি ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে এবং মূল আবেদনপত্র অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি অফলাইন আবেদন সাধারণ কাগজে জমা দিতে হবে এবং সেখানে আবেদনকারীর পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি, যে ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্তি বা বর্জন নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে, তার পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যও উল্লেখ করা জরুরি।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যে সমস্ত আপিল ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে - তা অনলাইন বা অফলাইন যেভাবেই হোক, সেগুলির নিষ্পত্তির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলা শাসকের উপর বর্তাবে। এই প্রক্রিয়ায় দেশের প্রযোজ্য আইন এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এই নির্দেশিকার মাধ্যমে মূলত আপিল প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুসংহত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়ায় দ্রুত নিষ্পত্তির পথও কিছুটা সহজ হবে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা নিয়ে যে কোনও বিতর্ক বা অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা একটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত।
সব মিলিয়ে, নতুন এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে ভোটার তালিকা সংশোধন ও আপিলের প্রক্রিয়ায় আরও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার।