দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রায় দু’মাস ধরে দিল্লির শাহিনবাগে চলছে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভ। কয়েকশ মহিলা দিল্লির প্রচণ্ড ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে অবস্থান করছেন সেখানে। অনেকের সঙ্গে আছে তাঁদের বাচ্চারা। এর আগে বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা তাঁদের ‘মিনি পাকিস্তান’, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বলেছেন। কিন্তু দিল্লি ভোটের যখন মাত্র এক সপ্তাহ বাকি, তখন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ দেখাল মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ শনিবার সকালে টুইট করে একথা জানিয়েছেন।
শাহিনবাগ এলাকাটি দিল্লির ওখলা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। সেখানে প্রথম নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান শুরু হয়। তারপর কলকাতা ও দেশের অন্যান্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন আগে শোনা যায়, বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, শাহিনবাগের বিক্ষোভের ফলে পরোক্ষে সুবিধা হবে তাদেরই। কিন্তু বাজেটের দিন সকালে রবিশংকর প্রসাদ জানান, সরকার শাহিনবাগে অবস্থানকারীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, তা দূর করা দরকার।
এর পরেই তিনি বলেন, “আলোচনা হওয়া চাই নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে।”
এর আগে রবিশংকর প্রসাদ বলেছিলেন, দিল্লির শাহিনবাগে যাঁরা নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাঁরা ‘শান্তিপ্রিয় সংখ্যাগরিষ্ঠের’ মতামত চাপা দিতে চান। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে আইনমন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁরা ওই গ্যাং-এর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তাঁর কথায়, কীভাবে মাত্র কয়েকশ জন মিলে শান্তিপ্রিয় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত চাপা দিতে পারে, শাহিনবাগ তার আদর্শ দৃষ্টান্ত। তিনি বলতে চেয়েছেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ শান্তিপ্রিয়। তাঁরা নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে। কিন্তু শাহিনবাগে যাঁরা অবস্থান করছেন, তাঁদের জন্যই সংখ্যাগরিষ্ঠের মত শোনা যাচ্ছে না।
আইনমন্ত্রীর কথায়, “দেশের মানুষের সামনে শাহিনবাগের প্রকৃত ছবিটা তুলে ধরা জরুরি। রাহুল গান্ধী আর অরবিন্দ কেজরিওয়াল এ ব্যাপারে চুপ করে আছেন।”
শাহিনবাগের প্রকৃত ছবি বলতে তিনি বুঝিয়েছেন, “সেখানে নাগরিকত্ব আইন বিরোধিতার নামে টুকরে টুকরে গ্যাং-এর একটা মঞ্চ তৈরি হয়েছে। তারা শুধু ওই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে না। তারা মোদীর বিরুদ্ধেও কথা বলছে।”
সাংবাদিক বৈঠকে রবিশংকর প্রসাদ বলেন, “ওখানে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। তাঁরা চুপ করে আছেন বটে কিন্তু মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে তাঁদেরও। কেজরিওয়াল ও দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ শিশোদিয়া শাহিন বাগের বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।”
বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডা টুইট করে বলেন, “যারা ভারতকে ভাঙতে চায়, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন কেজরিওয়াল। প্রাক্তন ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমারের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আছে। কিন্তু দিল্লি পুলিশকে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দিচ্ছেন না।”
দিল্লিতে ভোটের প্রচারে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “৮ ফেব্রুয়ারি যখন ভোট দেবেন তখন এমন জোরে (ভোটযন্ত্রের) বোতাম টিপুন যাতে বাবরপুরে বোতাম টিপলে তার ধাক্কা গিয়ে লাগে শাহিনবাগে।” দিল্লির বাবরপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের প্রচারে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “বিজেপি প্রার্থীকে আপনি ভোট দিলে তা দিল্লি তো বটেই পুরো দেশকে সুরক্ষিত করবে এবং শাহিনবাগের মতো শত শত ঘটনা প্রতিহত করবে।”