.webp)
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।
শেষ আপডেট: 5 May 2024 14:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছেন রাজভবনেরই এক অস্থা্য়ী মহিলা কর্মী। ইতিমধ্যে হেয়ারস্ট্রিট থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন ওই মহিলা।
সূত্রের খবর, মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আট সদস্যের সিট গঠন করেছে লালবাজার। ইতিমধ্যে সিটের সদস্যরা একবার রাজভবন ঘুরে এসেছেন।রাজভবনের কয়েকজন কর্মীকে ডেকেও পাঠানো হয়েছে। রাজভবনের ওসির কাছে সেদিনের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ চেয়েছে পুলিশ।
যদিও শুরু থেকেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যপালের দাবি, তাঁকে অপদস্থ করতে চক্রান্ত করা হচ্ছে। এবার রীতিমতো বিবৃতি দিয়ে রাজ্যপাল বোস রাজভবনের স্থায়ী, অস্থায়ী কর্মীদের জানিয়ে দিলেন, এ ব্যাপারে পুলিশ কোনও রকম তথ্য চাইলে তা দেবেন না। এমনকী ফোনেও পুলিশকে কোনও ধরনের সহযোগিতা না করার কথা বলা হয়েছে।
কর্মীদের আশ্বস্ত করে রাজ্যপাল তুলে ধরেছেন সাংবিধানিক সুরক্ষার প্রসঙ্গটিও।
রাজ্যপালের মতো সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে সমাজের অন্দরেও চর্চা শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাংবিধানিক সুরক্ষা থাকলেও রাজ্যপালের উচিত নিজের চেয়ারের সম্মানের কারণে ওই দিনের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে নিয়ে আসা। তাহলেই সত্যি-মিথ্যে সামনে চলে আসবে।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬১ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি পদক্ষেপ করা যায় না। সাংবিধানিক রক্ষাকবচ রয়েছে রাজ্যপালের। কর্মীদের সেকথা স্পষ্ট করে জানিয়ে রাজ্যপাল লিখেছেন, বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে জানতে পারছি পুলিশ নাকি তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহর চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে কর্মীদের আশ্বস্ত করে রাজপাল লিখেছেন, ভারতীয় সংবিধানের ৩৬১ ধারা অনুযায়ী রাজ্যপাল বেশ কিছু বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী। যেখানে কোনও আদালতের কাছে তাঁরা জবাবদিহি করেন না। পদে থাকাকালীন কোনও রাজ্যের রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ফৌজদারি প্রক্রিয়া চালানো যায় না। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা কিংবা জেল হেফাজতের রায় দিতে পারবে না কোনও আদালত। কোনও রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তদন্ত করা যাবে না। এমনকী, তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবেও উল্লেখ করা যাবে না। নিজের কার্যক্ষমতা কিংবা সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্যপাল কারও কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন।
এই প্রসঙ্গে ২০০৬ সালের রামেশ্বর প্রসাদ বনাম ভারত সরকারের মতো উল্লেখযোগ্য আইনি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত অভিযোগ শোনার পর কী জানিয়েছিল তাও কর্মীদের জানিয়েছেন বোস। লিখেছেন, ওই মামলায় রাজ্যপালের পাশেই দাঁড়িয়েছিল আদালত।