বৃহস্পতিবার সকালে আইপ্যাকের সল্টলেক অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালায়। সেই অভিযান ঘিরেই রাজ্য-রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।

রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস
শেষ আপডেট: 9 January 2026 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপ্যাক সংক্রান্ত ইডি অভিযানের (ED Raid at Ipac) ঘটনায় সরাসরি কোনও মন্তব্য করলেন না রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি শুধু জানান, বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। ফলে এই মুহূর্তে কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক মন্তব্য করা তিনি সমীচীন মনে করছেন না।
তবে রাজ্যপাল স্পষ্ট করে বলেন, “আইন সব সময়ই সবার ওপরে। প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনও উপায়ে আইন প্রয়োগ করা হবে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, যেহেতু বিষয়টি এখন কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) বিচারাধীন, তাই আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। রায় বেরোনোর পর প্রয়োজন হলে তিনি তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে আইপ্যাকের সল্টলেক অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Ipac Prateek Jain) লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালায়। সেই অভিযান ঘিরেই রাজ্য-রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। বিতর্ক আরও তীব্র হয়, কারণ তল্লাশি চলাকালীনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান - প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে, পরে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে।
এই ঘটনার পর থেকেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে ইডি।
শুক্রবার নতুন করে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইডি জানায়, ওই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আধিকারিকদের যুক্ত করা প্রয়োজন। ইডির অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তল্লাশিতে বাধা দিয়েছেন। এমনকী তল্লাশির সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি জোর করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তদন্তকারী সংস্থার।
ইডির আরও অভিযোগ, সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে তল্লাশি চলাকালীন নথি ছিনতাই করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তারা।
অন্যদিকে, ইডির অভিযানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে ইডির মামলা এবং তৃণমূলের পাল্টা মামলাটি উঠছে। বিচারপতি ঘোষ জানিয়েছেন, দুই মামলার শুনানি একসঙ্গেই হবে।
এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রীকে যুক্ত করার ইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।