ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য আপলোডের সময়সীমা বাড়ানোর দাবিতে রাজ্যপালকে চিঠি দেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। চিঠির প্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস।

অধীর চৌধুরী (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 17 December 2025 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য আপলোডের সময়সীমা বাড়ানোর দাবিতে রাজ্য রাজনীতিতে ফের চর্চায় উঠে এলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। সরাসরি রাজভবনের দরজায় গিয়ে দাবি জানানো থেকে শুরু করে চিঠি চালাচালি-গোটা বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক স্তরেও নড়াচড়া শুরু হয়েছে। সেই চিঠির প্রেক্ষিতেই এবার পাল্টা চিঠি পাঠালেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস (C V Ananda Bose)।
ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে আপলোড করার জন্য নির্দিষ্ট যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়- এই অভিযোগ তুলে সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে ১১ ডিসেম্বর রাজভবনে ডেপুটেশন দেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। ওই দিন তিনি মিছিল করে রাজভবনে পৌঁছে রাজ্যপালকে একটি লিখিত চিঠিও দেন। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, বহু জায়গায় এখনও ওয়াকফ সম্পত্তির নথি সম্পূর্ণ হয়নি, কোথাও আবার প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তথ্য সংগ্রহই সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় তড়িঘড়ি করে তথ্য আপলোডের বাধ্যবাধকতা চাপালে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ সমস্যায় পড়বেন।
রাজভবনে দেওয়া সেই চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করেই অধীরকে পাল্টা চিঠি পাঠালেন রাজ্যপাল। তাঁর দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, চিঠিতে বলা হয়েছে, অধীরের উত্থাপিত দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। যদিও এখনই সময়সীমা বৃদ্ধি করা হবে কি না, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়নি, তবে ‘বিবেচনা করা হবে’ এই বাক্যটিই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

উল্লেখযোগ্যভাবে, অধীর রঞ্জন চৌধুরী শুধু চিঠি দিয়ে থেমে থাকেননি। ১১ ডিসেম্বরের মিছিলে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা বাস্তবায়নের নামে রাজ্যে প্রশাসনিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। দাবি তোলেন, ওয়াকফ সম্পত্তি এমন একটি সংবেদনশীল বিষয়, যেখানে সময়, স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় বাস্তবতার কথা মাথায় না রাখলে অযথা বিতর্ক তৈরি হবে। সেই কারণেই সময়সীমা বাড়ানো জরুরি।
রাজ্যপালের পাল্টা চিঠির পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, এই ইস্যু কি আগামী দিনে আরও বড় আকার নেবে? কংগ্রেস শিবিরের একাংশের মতে, রাজভবন থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়াই প্রমাণ করে যে অধীরের দাবি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। অন্যদিকে, প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, আইন মেনে চলার পাশাপাশি বাস্তব সমস্যাগুলিকেও গুরুত্ব দিতে হবে- দু’দিক সামলেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য আপলোডের সময়সীমা ঘিরে তৈরি হওয়া এই টানাপোড়েন এখন আর শুধু প্রশাসনিক ইস্যু নয়, ধীরে ধীরে তা রাজনৈতিক রংও নিচ্ছে। রাজ্যপালের ‘বিবেচনা’ ঠিক কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর।