Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডোর এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটোহরর নয়, এক ব্যক্তিগত ক্ষতের গল্প—‘দ্য মামি’ নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক

Waqf: শেষমেশ নতুন ওয়াকফ আইন মানল নবান্ন, ওয়াকফ সম্পত্তির খতিয়ান কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোডের নির্দেশ

এ ব্যাপারে জেলা শাসকদের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধেয় চিঠি পাঠিয়েছেন সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের সচিব ডঃ পি. বি. সালিম। নবান্নের নির্দেশ, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে ‘umeedminority.gov.in’ পোর্টালে রাজ্যের জেলা ধরে ধরে ওয়াকফ সম্পত্তির খতিয়ান বা তথ্য আপলোড করতে হবে।

Waqf: শেষমেশ নতুন ওয়াকফ আইন মানল নবান্ন, ওয়াকফ সম্পত্তির খতিয়ান কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোডের নির্দেশ

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল

শুভম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: 28 November 2025 07:03

রফিকুল জামাদার

কেন্দ্রের নতুন ওয়াক্‌ফ আইন (Waqf amendment act 2025) মানতে প্রথমে অস্বীকার করলেও অবশেষে রাজ্যের ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির (Waqf property) তথ্য সেন্ট্রাল পোর্টালে আপলোড করতে রাজি হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এ ব্যাপারে কোনও উপায়ন্তরও ছিল না। কেন্দ্রের এই আইন মানতেই হত। সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে জেলা শাসকদের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধেয় চিঠি পাঠিয়েছেন সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের সচিব ডঃ পি. বি. সালিম। নবান্নের নির্দেশ, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে ‘umeedminority.gov.in’ পোর্টালে রাজ্যের জেলা ধরে ধরে ওয়াকফ সম্পত্তির খতিয়ান বা তথ্য আপলোড করতে হবে।

রাজনৈতিক ভাবেও এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলায় সংখ্যালঘু জনসংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ, মতান্তরে তারও বেশি। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার ওয়াকফ সংশোধন বিল পাশ করানোর পর বাংলায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন—তিনি পশ্চিমবঙ্গে নতুন ওয়াক্‌ফ সংশোধন আইন (Waqf Amendment Act 2025) কার্যকর হতে দেবেন না।

গত ৯ এপ্রিল একটি জৈন সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “বাংলায় ওয়াক্‌ফ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট কার্যকর হতে দেব না। মুসলমানদের ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ আমি চলতে দেব না।”

তিনি আরও বলেছিলেন, “আমাদের এখানে ৩৩ শতাংশ মুসলিম আছেন। তাঁরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখানে থাকছেন। তাঁদের সুরক্ষা দেওয়া আমার কর্তব্য।”


সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি না মেলায় কেন্দ্রীয় আইন মানতে বাধ্য রাজ্য

এ বছরের গোড়ায় সংসদের দুই কক্ষেই পাশ হয় ওয়াকফ সংশোধন বিল ২০২৫ (Waqf Amendment Bill, 2025)। বিরোধীরা তীব্র আপত্তি জানালেও কেন্দ্রের সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছে তা ধোপে টেকেনি। সংশোধিত আইন অনুযায়ী—ওয়াক্‌ফ বোর্ড ও ট্রাইব্যুনালে অ-মুসলিম সদস্য থাকবেন, কোনও সম্পত্তিকে ওয়াক্‌ফ দাবি করতে হলে প্রমাণপত্র দেখাতে হবে, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

রাজ্য এই আইনের বিরুদ্ধে আদালতে গেলেও আশানুরূপ ফল পায়নি। তাই শেষ পর্যন্ত সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় আইন মানতে বাধ্য হয়েছে নবান্ন।

উমিদ আইনের (Ummed: Unified Waqf Management, Empowerment, Efficiency, and Development Act) বাধ্যবাধকতা: 

ওয়াকফ সংশোধন আইন গত ৮ এপ্রিল ২০২৫ থেকে বাস্তবায়িত হয়েছে। আইনটির থ্রি বি (3B) ধারায় বলা আছে— দেশের সব নিবন্ধিত ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির তথ্য ৬ মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মুতাওয়াল্লিকে তা আপলোড করতেই হবে। এই সময়সীমা শেষ হচ্ছে ৫ ডিসেম্বর ২০২৫।

পশ্চিমবঙ্গে ৮২,০০০ ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি, ৮,০০০ ওয়াক্‌ফ এস্টেট

বৃহস্পতিবার সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতর জেলা শাসকদের যে চিঠি পাঠিয়েছেন, সেই অনুযায়ী বাংলায় ৮২ হাজারের বেশি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি রয়েছে। এগুলি ৮ হাজারেরও বেশি ওয়াক্‌ফ এস্টেটের অধীনে। সব তথ্য “Maker” হিসেবে আপলোড করবেন সংশ্লিষ্ট মুতাওয়াল্লিরা।

রাজ্যের জেলাশাসকদের পাঠানো চিঠিতে সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের সচিব স্পষ্ট ভাবে আট দফা কর্মসূচির নির্দেশ দিয়েছেন। 

এক, মুতাওয়াল্লি, ইমাম, মোয়াজ্জিন ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করে তাদের আপলোড প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে হবে। জেলা স্তরে মুতাওয়াল্লিদের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় পোর্টালে তথ্য আপলোডের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মুতাওয়াল্লিদের তালিকা ইতিমধ্যেই শেয়ার করা হয়েছে। 

দুই, কেবল অ-বিতর্কিত সম্পত্তির তথ্য আপলোড করতে হবে। যেসব এস্টেট ‘Enrolled’ (EC নম্বরধারী), সেখানকার অ-বিতর্কিত সম্পত্তিই রেজিস্টার করা যাবে।

তিন, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তা যুক্ত কর্মী নিয়ে Facilitation Centre খুলতে হবে।

চার, সংখ্যালঘু দফতরের রাজ্যস্তরের অফিসগুলির সিনিয়র অফিসারদের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে পরিদর্শনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পাঁচ, কাজটির জন্য নির্দিষ্টভাবে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিতে হবে এবং প্রতিদিনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

ছয়, এই দফতরের অধীনে রাজ্য-স্তরের অফিসগুলোর সিনিয়র অফিসারদের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে পরিদর্শনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

সাত, আটটি জেলায় ইতিমধ্যেই হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। বাকি জেলাগুলোও একইভাবে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করতে পারে।

আট, প্রতিদিন (দুপুর ২ টো থেকে ৪ টে পর্যন্ত) ভিসি মোডে স্টেট ওয়াক্‌ফ বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা রাজ্যের সব অফিস থেকেই অংশগ্রহণ করা যায়। 

এর পাশাপাশি চিঠিতে বলা হয়েছে, এই স্বল্প সময়ের মধ্যে লক্ষ্য পূরণ করতে হলে জেলা শাসকদের ব্যক্তিগত নজরদারিও অত্যন্ত জরুরি।

তবে ঘটনা হল, ৫ ডিসেম্বরের আগে এখন হাতে খুব বেশি সময় নেই। একেবারে ডেডলাইনের মুখে এসে এভাবে নির্দেশ জারি করায় জেলাস্তরে হুড়োহুড়ি পড়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।


```