দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি দাঙ্গায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রবিবার গভীর রাতে গ্রেফতার হয়েছেন উমর খালিদ। জেএনইউয়ের ছাত্রনেতার গ্রেফতারির ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই দেশদ্রোহিতার মামলা চাপানো নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে চড়া সুরে আক্রমণ শানালেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এমবি লোকুর।
সোমবার একটি ওয়েবিনারে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার দেশদ্রোহিতার ধারাকে ব্যবহার করছে লোহার হাত হিসেবে। যার ফলে আসলে কথা বলার অধিকারকেই দাবিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ক্যাম্পেইন ফর জুডিশিয়াল অ্যাকাউন্টিবিলিটি অ্যান্ড রিফর্মস স্বরাজ অভিযান আয়োজিত ওয়েবিনারে এই ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে কার্যত তুলোধনা করেন এমবি লোকুর।
তাঁর কথায়, "সাংবিধানিক রীতিনীতির বাইরে গিয়ে কেউ কোনও কথা বলছেন কি না তা দেখা ও তা নিয়ন্ত্রণ করা রাষ্ট্রের কাজ। কিন্ত এখন যেটা হচ্ছে তাতে দেখা যাচ্ছে দেশদ্রোহীতাকে অন্যায্য কায়দায় ব্যবহার করা হচ্ছে। হঠাৎ করেই দেখা যাচ্ছে এই ধারায় মামলা রুজু হওয়া, গ্রেফতারি লাফ দিয়ে বেড়ে গেছে।"
এখানেই থামেননি তিনি। এমবি লকুর আরও বলেন, "যখন কেউ ঐক্য ও প্রগতির কথা বলছে তখন সেটাকেই বলা হচ্ছে দেশ ভাঙার চক্রান্ত। ছাত্র-যুবরা যখন দেশের ভালর জন্য কোনও কিছুর প্রতিবাদ করছেন বা পরামর্শ দিচ্ছেন তখন তাঁদের বলা হচ্ছে দেশদ্রোহীতার মামলায় জেলে ঢুকিয়ে দেব।"
আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ মামলা প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন দেশের শীর্ষ আদালতের প্রাক্তন বিচারপতি। তাঁর কথায়, প্রশান্ত ভূষণ যে টুইট করেছিলেন তার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
দেশে বাক স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে বলে.মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন বিচারপতি। তাঁর কথায়, মুক্ত কণ্ঠে কথা বলতে দেবে না বলেই দেশদ্রোহীতাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
রবিবারই জানা গিয়েছিল সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, স্বরাজ অভিযানের নেতা যোগেন্দ্র যাদব, অধ্যাপিকা জয়তী ঘোষদের নাম দিল্লির হিংসার সাপ্লিমেন্টরি চার্জশিটে দেওয়া হয়েছে। তারপরই বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ হয়। তারপর আজই সে ব্যাপারে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এ হেন আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন বিচারপতি।
বিরোধীদের অনেক দিনেরই অভিযোগ, দেশপ্রেমের মোড়কে মোদী সরকার.গায়ের জোরে আরএসএসের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে চাপিয়ে দিচ্ছে। বিরোধী স্বর দমিয়ে দিতে দাঁত-নখ বের করে ফেলছে। অনেকের.মতে প্রাক্তন বিচারপতির এদিনের মন্তব্যে বিরোধীদের সেই বক্তব্য আরও অক্সিজেন পেল।