'সৈকত পরিষ্কার, আমাদের অঙ্গীকার' - এই ভাবনাকে সামনে রেখেই এ বছর পরিচালিত হয়েছে গঙ্গাসাগর মেলা। লক্ষ লক্ষ মানুষের চাপ সামলানো সহজ ছিল না।

নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 16 January 2026 13:15
১ কোটি ৩০ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগমে নির্বিঘ্নে ও সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হল এবারের গঙ্গাসাগর মেলা (Gangasagar Mela 2026)। শুধু ভক্তসমাগমই নয়, মেলা শেষ হওয়ার পরও প্রশাসনের তৎপরতায় নজির গড়ল গঙ্গাসাগর। প্রায় তিন হাজার সাফাই কর্মীর (Gangasagar Cleanliness Abhijan) নিরলস পরিশ্রমে অল্প সময়ের মধ্যেই ঝকঝকে করে তোলা হল গোটা মেলা চত্বর ও সৈকত এলাকা।
'সৈকত পরিষ্কার, আমাদের অঙ্গীকার' - এই ভাবনাকে সামনে রেখেই এ বছর পরিচালিত হয়েছে গঙ্গাসাগর মেলা। লক্ষ লক্ষ মানুষের চাপ সামলানো সহজ ছিল না। কিন্তু প্রশাসন, মেলা কমিটি, সাফাই কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত উদ্যোগে সুষ্ঠুভাবেই শেষ হয়েছে এই মহাযজ্ঞ।
মেলা কমিটির চেয়ারম্যান সুরেন্দ্র গুপ্ত বলেন, “এই মেলা সামলানো যেমন বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, তেমনই পরিবেশ রক্ষা করাও আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। সকলের সহযোগিতায় তা সম্ভব হয়েছে। আশা করছি, ২০২৭ সালের মেলা আরও বড় ও আরও সুন্দর হবে।”
মেলার সার্বিক সাফল্য নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা (Bankim Chandra Hazra)। তিনি জানান, “এত বড় মেলাতেও একটিও প্রাণহানি না হওয়া প্রশাসনিক সাফল্যের বড় উদাহরণ। গঙ্গাসাগর মেলা প্রকৃত অর্থেই ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ মেলার দৃষ্টান্ত।”
মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মেলায় আগত সমস্ত পুণ্যার্থীদের ধন্যবাদ জানান। কৃষি বিপণনমন্ত্রী বেচারাম মান্না (Becharam Manna) এবং দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুও (Sujit Basu) মেলার ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশংসা করেন। সুজিত বসু বলেন, “প্রতিবছরই গঙ্গাসাগর মেলা আগের বছরকে ছাপিয়ে যায়। এ বছরের সাফল্য সত্যিই গর্বের।”
বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের কথায়, “ভারতবর্ষে এমন মেলা আর কোথাও নেই। প্রায় ৩ হাজার ‘সৈকত বন্ধু’ দিনরাত পরিশ্রম করে সৈকত পরিষ্কার রেখেছেন - তাঁদের কৃতিত্ব অসীম। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশ অনুযায়ী আমরা শুধু আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। কে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দিল বা দিল না, তা বড় কথা নয় - ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষই এই মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দিয়েছেন।”
সব মিলিয়ে, এবারের গঙ্গাসাগর মেলা শুধু পুণ্যস্নানের তীর্থেই সীমাবদ্ধ রইল না - শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকল।