জানা গিয়েছে, উপাচার্যের উদ্যোগে রাজবাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের ঘরের সামনে ম্যারাপ বেঁধে গণেশ পুজোর আয়োজন করা হল বুধবার। ডেকোরেশন থেকে পুরোহিত- সামান্যতম ত্রুটিও রাখা হয়নি।

উপাচার্যের ঘরের সামনে গণেশপুজো
শেষ আপডেট: 27 August 2025 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ঘরের সামনে ষোড়শপচারে গণেশ পুজো সারলেন উপাচার্য শঙ্করকুমার নাথ। বিখ্যাত ভূ-তত্ত্ববিদ শঙ্করবাবু অবশ্য এতে দোষের কিছু দেখছেন না।
জানা গিয়েছে, উপাচার্যের উদ্যোগে রাজবাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের ঘরের সামনে ম্যারাপ বেঁধে গণেশ পুজোর আয়োজন করা হল বুধবার। ডেকোরেশন থেকে পুরোহিত- সামান্যতম ত্রুটিও রাখা হয়নি উপাচার্যের তরফে। উপাচার্যের ঘরের সামনে এই গণেশ পুজো নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
এস এফ আইয়ের জেলা সম্পাদক উষসী রায়চৌধুরী বলেন, "এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক, সর্বোচ্চ কর্তার এই আচরণ, সেখানে বিজ্ঞান শিক্ষার কীভাবে প্রসার ঘটবে? বিশ্ববিদ্যালয় একটি সেকুলার বডি। সেখানে এই ধরণের আচরণ নিয়ে ছাত্রছাত্রীরাই সন্দিহান।"
তবে উপাচার্য মনে করেন, ঈশ্বরের আশীর্বাদ ছাড়া কিছু হয় না। তাঁর কথায়, "গণেশ হচ্ছেন সিদ্ধিদাতা। কোনও কিছুই তাঁর আর্শীবাদ ছাড়া সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক রকমের পরিকল্পনা আছে। এই গণেশ মুর্তি এখানেই থাকবে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বিশ্বকর্মা, সরস্বতী পুজো থেকে শুরু করে আরও যা যা পুজো করা সম্ভব আমরা করব। আমরা ঈদ ও বড়দিন উৎসবেও সামিল হই। আসলে বাংলা হচ্ছে সর্বধর্ম সমন্বয়ের একটি পীঠস্থান। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে বাংলায় সেই সর্বধর্মের সমন্বয় অব্যাহত।"
তিনি জানান, আইআইটি খড়্গপুরে থাকাকালীন গণেশ পুজোয় অংশ নিতেন। তিনি গণেশের বড় ভক্ত। তাঁর বাড়ি,অফিসে গণেশের মূর্তি রয়েছে। এই বিতর্কে তাঁর কিছু যায় আসে না। এবার থেকে গণেশকে মালা দিয়েই তিনি তার প্রতিদিনের কাজ শুরু করবেন। তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে মেইল করে দেওয়া হয়েছে। সবাই এমনকি ভিন্নধর্মের লোকেরাও আসবেন। আশীর্বাদ নেবেন।"
পুজো কি বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় হল? সেই প্রশ্নের উত্তরে উপাচার্য বলেন, "এটা উপাচার্যের নিজস্ব খরচ থেকে করা হয়েছে। এর খরচও তেমন বেশি কিছু নয়। সেভাবেই এ ব্যাপারটা দেখতে হবে।"