ঘটনার ভয়াবহতা এবং তা নিয়ে অভিযুক্তের উদাসীনতা প্রসঙ্গে পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে যাদবের মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 August 2025 18:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুপিয়ে মাকে খুন করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মৃতদেহের পাশে বসে গান গাইল ও বালি জড়ো করে খেলতেও দেখা গেল এক যুবককে। ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা এলাকা। ছত্তিসগড়ে মঙ্গলবার ভোরবেলা নাগাদ ঘটা এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
অভিযুক্তের নাম জিৎ রাম যাদব। ছত্তিসগড়ের কুঙ্কুরি থানার অন্তর্গত বেন্দ্রেরভদ্রা গ্রামের ওই ঘটনায় স্থানীয়রা জানান, ধারাল অস্ত্র দিয়ে বারবার কুপিয়ে নিজের মা গুলাবাইকে সে খুন করে। ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় গুলাবাইয়ের।
পরিবার ও প্রতিবেশীরা চিৎকার করে লোক জড়ো করলেও কেউ এগোতে পারেনি, কারণ অভিযুক্ত ওই সময় যে কাউকে লক্ষ্য করে আঘাত করতে ধারাল অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসছিল। পরে স্থানীয়দের থেকে খবর পেয়ে কুঙ্কুরি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ততক্ষণে শতাধিক গ্রামবাসী জড়ো হয়ে গিয়েছেন বাড়ি ঘিরে।
ঘটনার ভয়াবহতা এবং তা নিয়ে অভিযুক্তের উদাসীনতা প্রসঙ্গে যশপুরের পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে যাদবের মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়। তবে কী কারনে ওই রকম নৃশংস ঘটনা ঘটল, তার সঠিক কারণ এখনও পরিষ্কার নয়। প্রায় চার ঘণ্টার টানা চেষ্টা, বোঝানো ও পরিকল্পনার পর পুলিশ অবশেষে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
পরিবার জানিয়েছে, গত দু’বছর ধরে জিতের মানসিক সমস্যা ক্রমশই বাড়ছিল। অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য কোনও চিকিৎসকের পরামর্শ না নেওয়ার অভিযোগ সামনে উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, তাকে স্থানীয় বৈগা বা কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হত।
ঘটনার পর জিতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কেন এমন ভয়াবহ পদক্ষেপ নিল যাদব, তার তদন্ত শেষ না হলে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার নৃশংসতা মাথায় রেখে জোরকদমে এই ঘটনার তদন্ত নিয়ে অগ্রগতি চাইছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিলে ঠিক এমনই এক ঘটনা ঘটেছিল যশপুর জেলারই বাগবাহার থানার এলাকায়। ১৫ বছরের এক কিশোরী ধারাল অস্ত্র দিয়ে নিজের বাবাকে কুপিয়ে খুন করে। বাবার মদ্যপান আর প্রতিদিনের অশান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল সে। মেয়েটি বাধ্য হয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছিল, এমনটাই উঠে আসে পুলিশের তদন্তে।