সোনার চেন না দেওয়ায় বিহারে নববধূকে খুনের অভিযোগ, অভিযুক্তরা পলাতক! বিস্তারিত জানুন...

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 27 August 2025 18:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যৌতুকের বলি হলেন এক সদ্য বিবাহিতা তরুণী। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যৌতুকজনিত হত্যাকাণ্ডের খবর যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন বিহারের খাগারিয়া জেলায় ২০ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে খুন করে ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, তাদের ছেলের বিয়ের সময়ে একটি সোনার চেন দিতে দেরি হওয়ায় তাকে খুন করা হয়েছে।
মৃত গৃহবধূ ডিসি কুমারীর বাবা জাগো যাদব জানান, প্রায় এক বছর আগে ডিসি-র বিয়ে হয়েছিল বিভীষণ যাদবের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য তাকে নিয়মিত হয়রানি করত। জাগো যাদব জানান, তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, কিছুদিন পর তিনি তাদের দাবি পূরণ করবেন, কিন্তু তারা রাজি হননি।
কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, "আমি তাদের কাছে দুই মাসের সময় চেয়েছিলাম।" পাশে থাকা এক আত্মীয় যোগ করেন, "নইলে তাকে মেরে ফেলবে, এটাই বলেছিল।"
মৃতের ভাই সন্দীপ কুমার জানান, তার বোনকে প্রথমে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে তার মরদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তার বোনের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। "আমরা তাদের যা দিতে পেরেছি, তা দিয়েছি। কিন্তু তারা একটি সোনার চেন এবং একটি গাড়ির জন্য ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিল। দু'মাস আগে আমার বিয়ে হয়েছিল, আর তাই তারা একটি সোনার চেন দাবি করছিল। আমরা বলেছিলাম যে এখনই দিতে পারব না, দুই মাসের সময় চেয়েছিলাম। এ কারণেই তারা তাকে মেরে ফেলেছে," বলেন সন্দীপ। তিনি জানান যে, তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর ডিসির মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাটি ২৮ বছর বয়সী নিক্কি ভাটির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন পর ঘটেছে। গত সপ্তাহে যৌতুকের জন্য নিক্কিকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুড়িয়ে মেরেছিল। এছাড়াও, সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের আমরোহা জেলায় যৌতুক সংক্রান্ত আরেকটি খুনের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে এক পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রীকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আগুন লাগিয়ে দেয়। ভারতে কয়েক দশক ধরে যৌতুক অবৈধ হলেও, এই সামাজিক ব্যাধি আজও একটি ভয়াবহ বাস্তবতা, যার কারণে প্রতিদিন অসংখ্য মহিলা প্রাণ হারাচ্ছেন।