দরভাঙ্গা থেকে মুজফ্ফরপুরে ঢোকার মুখেই রাস্তার দু’পাশে সার বেঁধে দাঁড়িয়েছিল ভিড়। স্লোগান, হাততালি আর ফুলের বৃষ্টি মিশে গিয়েছিল যাত্রাপথে।

বাইকে সওয়ার রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
শেষ আপডেট: 27 August 2025 18:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের (Bihar) মুজফ্ফরপুরে বুধবার বিরোধী শিবিরের শক্তি দেখা গেল। কংগ্রেস নেতা (Congress) রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বাইকে চেপে (Bike Rally) করলেন ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi)। দাদার বাইকের পিছনেই বসে ছিলেন তিনি।
দরভাঙ্গা থেকে মুজফ্ফরপুরে ঢোকার মুখেই রাস্তার দু’পাশে সার বেঁধে দাঁড়িয়েছিল ভিড়। স্লোগান, হাততালি আর ফুলের বৃষ্টি মিশে গিয়েছিল যাত্রাপথে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল ও প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বীর বাইক-মিছিল যেন বিজেপি শিবিরকে কড়া বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
১৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ শুরু হয়েছে গত ১৭ অগস্ট, সাসারাম থেকে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর পাটনার মহাসমাবেশে এর সমাপ্তি হবে। যাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক বিরোধী নেতা যোগ দিচ্ছেন। বুধবারই সেখানে যোগ দিয়েছিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন।
फिर बुलेट पर राहुल जी और प्रियंका जी …#VoterAdhikarYatra pic.twitter.com/wlj3M4cpUi
— Bihar Congress (@INCBihar) August 27, 2025
যাত্রাপথে মঙ্গলবার দরভাঙ্গার সভা থেকে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলিতভাবে ভোট লুট করছে। তাঁর ভাষায়, “বিশেষ তালিকা পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়াই প্রকাশ করেছে বিজেপি ও কমিশনের আসল রূপ। তাই মানুষ এখন বিজেপি নেতাদের ‘ভোট চোর’ বলছে।” তিনি আরও বলেন, “ভোটের অধিকার মানে শুধু গণতন্ত্র নয়, সংবিধানকেও রক্ষা করা। বিজেপির ভোট চুরির রাজনীতি রুখতে মানুষের এগিয়ে আসা ছাড়া আর কোনও পথ নেই।”
বুধবার আবার ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেন রাহুল। সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলে তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ থামিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, যুদ্ধ থামানোর জন্য ২৪ ঘণ্টা নাকি সময়ও দিয়েছিলেন। রাহুল বলেন, ‘‘ট্রাম্প বলেছেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ চলার সময় তিনি ফোন করেছিলেন মোদীকে। বলেছিলেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যা চলছে তা থামাতে। কিন্তু মোদী ফোন পাওয়ার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই সব থামিয়ে দেন।’’
বিজেপির বক্তব্য, দেশের প্রধানমন্ত্রীর কথা বিশ্বাস না করে বিদেশি রাষ্ট্রনেতার কথায় আমল দিয়ে আদতে রাহুল গান্ধী দেশের বিরোধিতাই করছেন। বিদেশের কাছে দেশের সম্মান নষ্ট করছেন। এর জন্য পদক্ষেপ করা উচিত সরকারের। যদিও বিরোধীদের মতে, এই দাবি যদি সত্যি হয় তবে দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপে বিদেশি রাষ্ট্রনেতার ইশারায় সিদ্ধান্ত বদল গণতান্ত্রিক ভারতের মর্যাদাকে খাটো করে।