অত্যন্ত জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত সুপর্ণা জানা ও অর্পিতা দলুইয়ের উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন তিনি। দিল্লির এইমসে (AIIMS) তাঁদের চিকিৎসার যাবতীয় বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 5 March 2026 19:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতির ময়দানে নন্দীগ্রাম (Nandigram Sebaashray) নিয়ে চাপানউতর চললেও, দুই অসুস্থ কিশোরীর প্রাণ বাঁচাতে তৎপর হলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। অত্যন্ত জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত সুপর্ণা জানা ও অর্পিতা দলুইয়ের উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন তিনি। দিল্লির এইমসে (AIIMS) তাঁদের চিকিৎসার যাবতীয় বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে ধরা পড়ে রোগ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত উদ্যোগে নন্দীগ্রামের দু’টি ব্লকে সম্প্রতি আয়োজিত হয়েছিল ‘সেবাশ্রয়’ নামক নিখরচায় স্বাস্থ্য পরিষেবা শিবির। সেখানেই হাজার হাজার মানুষের ভিড়ের মধ্যে এই দুই কিশোরীর শারীরিক সমস্যার কথা সামনে আসে। ৬ বছরের শিশু সুপর্ণা দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি ডাউন সিনড্রোম এবং অ্যাসাইটিসের (পেটে জল জমা) সমস্যায় ভুগছিল। অন্যদিকে অর্পিতার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ায় তার শ্বাসক্রিয়া প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।
দিল্লির এইমসে যাত্রা
শিবিরে প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, সুপর্ণা ও অর্পিতার সুস্থ হওয়ার জন্য অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রয়োজন। সেই রিপোর্ট হাতে আসতেই বিলম্ব করেননি অভিষেক। তাঁর নির্দেশে দ্রুততার সঙ্গে তাঁদের দিল্লির এইমসে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। যাতায়াত থেকে শুরু করে চিকিৎসার সমস্ত আনুষঙ্গিক খরচ বহনের দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি। লক্ষ্য একটাই, অর্থাভাব যেন দুই কিশোরীর লড়াইয়ের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
কৃতজ্ঞ পরিবার
পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না, তাই বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সাহস পাননি সুপর্ণা ও অর্পিতার মা-বাবা। এই অপ্রত্যাশিত সাহায্য পেয়ে আপ্লুত দুই পরিবার। তাঁদের কথায়, “রাজনীতির লড়াই তো চলতেই থাকে, কিন্তু বিপদের দিনে এ ভাবে হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রকৃত মানবতার পরিচয়।”
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সুখবর দিয়ে অভিষেক লিখেছেন, নন্দীগ্রামের দুই তরুণী, সুপর্ণা জানা ও অর্পিতা দলুই ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগোচ্ছে জেনে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি জানান, নন্দীগ্রামে তাঁদের ‘সেবাশ্রয়’ শিবির চলাকালীনই ওই দুই কিশোরীর কথা জানা যায়। দু’জনেই জটিল হৃদরোগে ভুগছিলেন।
অভিষেক লেখেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই দুর্বল ছিল যে এই ধরনের জটিল চিকিৎসা করানো তাঁদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। বিষয়টি সামনে আসতেই দ্রুত তাঁদের দিল্লির এইমসে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে। তাঁর কথায়, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও যাতে চিকিৎসায় কোনও ত্রুটি না থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আর্থিক অসুবিধার কারণে কোনও শিশুর জীবন থেমে থাকতে পারে না।
এই মুহূর্তে দুই কিশোরীর চিকিৎসা চলছে এইমসে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। সুস্থ হয়ে দ্রুত বাড়ি ফেরার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে অভিষেক লিখেছেন, তারা যেন নতুন প্রাণশক্তি ও উজ্জ্বল হাসি নিয়ে আবার নিজের বাড়িতে ফিরে আসে। তাঁর কথায়, কোনও সমাজের প্রকৃত পরিচয় বোঝা যায় সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই।