সিবিআই সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা—এই জেলাগুলিতেও সক্রিয় মানবপাচার চক্র। স্থানীয়দের এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 10 September 2025 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রায়নার (Raina) নাবালিকা বিক্রির ঘটনায় একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসছে সিবিআইয়ের তদন্তে।
সূত্র অনুযায়ী, স্টেশন সংলগ্ন এলাকা ও ভবঘুরে পরিবারের কিশোরী-যুবতীদের টার্গেট করছে পাচার চক্র (Human Trafficking Ring)। মহিলাদের এজেন্ট হিসেবে কাজে লাগিয়ে তারা মেয়েদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে, তারপর কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তুলে দেয় পাচারকারীদের হাতে।
তদন্তকারীদের দাবি, এইসব এলাকা থেকে কিশোরীদের পাচার করলে ঝুঁকি কম থাকে। নিখোঁজ হলেও থানায় অভিযোগ হয় না। তাই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই সিন্ডিকেট ঘাঁটি গেড়েছে।
তদন্তে নেমে আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, বেশিরভাগ সময় রাজস্থান (Rajasthan), হরিয়ানা ও মুম্বইতে কিশোরীদের বিক্রি করা হয়। একাধিকবার বিক্রির পর যৌবন ফুরোলে ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার করা হয়। রায়নার ওই নাবালিকাকেও তিন-চারবার বিক্রি করা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সিবিআই তাকে উদ্ধার করে।
গলসির এক নাবালিকাকে রাজস্থান থেকে উদ্ধার করার পরও পাচারকারীদের হুমকিতে তটস্থ হয়ে পড়েন তার পরিবার। তদন্তকারীদের ওই নাবালিকা জানিয়েছেন, মরুরাজ্যে এরাজ্যের আরও বহু কিশোরী আটকে আছে। তারা সকলেই ফিরে আসতে চায়।
সিবিআই সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা—এই জেলাগুলিতেও সক্রিয় মানবপাচার চক্র। স্থানীয়দের এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্তে নেমে সম্প্রতি বর্ধমানের মালিরবাগান ও মেহেদিবাগান থেকে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। রায়নার কিশোরী পাচারের ঘটনায় এর আগেও বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এরা আরও বহু নাবালিকাকে পাচার করেছে। সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।