প্রশাসনের একাংশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ভারতের কোনও অংশে অশান্তির খবর নেই। কিন্তু সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করেছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। নামানো হয়েছে অতিরিক্ত বাহিনী।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 9 September 2025 20:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালে ‘জেন জি’ আন্দোলনের জেরে (Nepal's Movement) অশান্ত পরিস্থিতি ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে একের পর এক মন্ত্রীর ইস্তফা, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অস্থির। আর সেই আঁচ যাতে এ পারে না-ছড়ায়, সে কারণে ইন্দো-নেপাল সীমান্তে (Panitanki Border) কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে (Tight Security)। পানিট্যাঙ্কি সীমান্তে এখন কার্যত অচল যান চলাচল। দোকানপাট বন্ধ, রাস্তায় নেই লোকজন।
প্রশাসনের একাংশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ভারতের কোনও অংশে অশান্তির খবর নেই। কিন্তু সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করেছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। নামানো হয়েছে অতিরিক্ত বাহিনী। এ পারে মোতায়েন এসএসবি, ও পারে নজরে নেপালি সেনা। শুরু হয়েছে কড়া নাকা তল্লাশি, প্রত্যেকটি গাড়ির চালক ও যাত্রীর নাম, পরিচয়পত্র, গন্তব্য—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নামানো হয়েছে ডগ স্কোয়াডও।
দার্জিলিং জেলার পুলিশ সুপার প্রবীন প্রকাশ মঙ্গলবার সকালেই পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত পরিদর্শনে যান। পরে জানান, “আমরা সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। সীমান্তের ওপারে কোনও ভারতীয় নাগরিক সমস্যায় পড়লে তাঁরা আমাদের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ইতিমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের সাহায্যে দার্জিলিং জেলা পুলিশ চালু করেছে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম।
নেপালের বিরতামোড়, বীরগঞ্জ-সহ একাধিক শহরে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ জারি রয়েছে। রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ্বালানো, সরকারি দফতরে ভাঙচুর—চিত্রটা দিনকে দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মঙ্গলবারও দু’জন আন্দোলনকারীর মৃত্যুর খবর মিলেছে, যা ঘিরে উত্তেজনা আরও চরমে।
ঘটনার জেরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তে শয়ে শয়ে ট্রাক দাঁড়িয়ে। নেপালে প্রবেশ করতে না পেরে আটকে রয়েছেন শতাধিক ভারতীয় ট্রাকচালক ও বহু পর্যটক। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কথায়, “গত তিন দিন ধরে দোকান খুলতে পারিনি। কেউ জানে না, পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।”
সীমান্তে টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই প্রশাসন চাইছে শান্তিপূর্ণভাবেই সব সামলাতে। এক আধিকারিকের মন্তব্য, “এই আন্দোলনের প্রভাব এ পারেও যেন না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করতেই এখন আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছি।”
সীমান্তে কড়া নজরদারি চালিয়েও উদ্বেগ কিন্তু মিটছে না। নেপালের রাজনীতি কী মোড় নেয়, তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গ।