বাগদা পশ্চিম ব্লকের তৃণমূল সভাপতি অঘোর চন্দ্র হালদারের প্রশ্ন, “অনেকেই তো আবেদন করেছেন। তাহলে দু-এক জনকে আলাদা করে কেন নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে? এটা কি নির্বাচনের আগে কোনও গিমিক নয়?”
_0.jpeg.webp)
প্রমথরঞ্জন বিশ্বাস।
শেষ আপডেট: 9 September 2025 20:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ থেকে এসে ভারতে বসবাস শুরু করেছিলেন প্রায় দেড় দশক আগে। পেশায় ছিলেন ডাককর্মী (Bangladeshi Postal Worker)। এবার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র (Citizenship) হাতে পেলেন উত্তর ২৪ পরগনার হেলেঞ্চার বাসিন্দা প্রমথরঞ্জন বিশ্বাস। মঙ্গলবার সরকারি ভাবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র।
শংসাপত্র হাতে পেয়ে আবেগপ্রবণ প্রমথ বলেন, “এখন আর কেউ বলবে না আমি অনুপ্রবেশকারী। আমি ভারতীয় নাগরিক। গুজবে কান দেবেন না, ভয় না পেয়ে আবেদন করুন।” মতুয়া সম্প্রদায়ের (Matua) এই প্রৌঢ়ের নাগরিকত্ব পাওয়া ঘিরে নতুন করে শোরগোল ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসেন প্রমথ। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার হেলেঞ্চার বৈঁচিডাঙাতে স্থায়ী বসবাস শুরু করেন তিনি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে সিএএ অনুযায়ী নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। প্রশাসনিক স্তরে যাবতীয় যাচাইয়ের পর হাতে পান শংসাপত্র।
বিজেপির দাবি, সিএএ বাস্তবায়ন যে বাস্তবের জমিতে নেমে এসেছে, প্রমথর ঘটনা তার জ্বলন্ত প্রমাণ। বিজেপি নেতা বিধানচন্দ্র হাওলাদার বলেন, “তৃণমূল মানুষকে সিএএ নিয়ে বিভ্রান্ত করছে। প্রমথবাবু নাগরিকত্ব পেয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন, এ দেশে থাকতে হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এখনই সময় আবেদন করার।”
অন্যদিকে, তৃণমূল বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। বাগদা পশ্চিম ব্লকের তৃণমূল সভাপতি অঘোর চন্দ্র হালদারের প্রশ্ন, “অনেকেই তো আবেদন করেছেন। তাহলে দু-এক জনকে আলাদা করে কেন নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে? এটা কি নির্বাচনের আগে কোনও গিমিক নয়?”
উল্লেখ্য, সিএএ কার্যকর হওয়ার পরে মতুয়া মহাসঙ্ঘ উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার বিভিন্ন উদ্বাস্তু এলাকায় নাগরিকত্বের আবেদনপত্র সংগ্রহে নামে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর তখনই ঘোষণা করেন, ‘হিন্দু’ পরিচয় নিশ্চিত করতে তাঁদের তরফে শংসাপত্রও দেওয়া হবে। আবেদন করতে না পারা ব্যক্তিদের জন্য ফর্ম পূরণের ব্যবস্থাও নেয় সংগঠন।
প্রমথর অভিজ্ঞতা এখন নজির হয়ে উঠেছে মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষের কাছে। শংসাপত্র হাতে নিয়ে তাঁর বার্তা, “আমি কোনও হয়রানি ছাড়াই নাগরিকত্ব পেয়েছি। সরকারি কোনও ভাতা বন্ধ হয়নি। ভয় নয়, ভরসা রাখুন ভারত সরকারের উপর।”
আর সেই ভরসাকেই পুঁজি করে দুই শিবিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্জা। একে বিজেপির হাতিয়ার বলছে বিরোধীরা, অন্য দিকে বিজেপির পাল্টা দাবি, সিএএ নিয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তির উত্তরই প্রমথর নাগরিকত্ব।