আইসিসের বন্দিশালা থেকে পালিয়ে নোবেল জয় তরুণীর
দ্য ওয়াল ব্যুরো : বছর পঁচিশের এক রোগা, বাদামি চুলওয়ালা তরুণী। দুচোখে সরল দৃষ্টি। দেখে বোঝাই যাবে না কী দুঃসহ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে কেটেছে তাঁর জীবন। তিনি মনের অসীম শক্তিতে সেই বিপদ অতিক্রম করেছেন তো বটেই, আরও অনেককে উদ্ধারও করেছেন সংকট থে
শেষ আপডেট: 5 October 2018 10:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো : বছর পঁচিশের এক রোগা, বাদামি চুলওয়ালা তরুণী। দুচোখে সরল দৃষ্টি। দেখে বোঝাই যাবে না কী দুঃসহ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে কেটেছে তাঁর জীবন। তিনি মনের অসীম শক্তিতে সেই বিপদ অতিক্রম করেছেন তো বটেই, আরও অনেককে উদ্ধারও করেছেন সংকট থেকে। নাম নাদিয়া মুরাদ। এবছর কঙ্গোর ডাক্তার ডেনিস মুকওয়েজের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন।
তিনি ইয়াজদি উপজাতির এক তরুণী। বাড়ি ইরাক ও সিরিয়ার সীমান্তে। পাহাড়ের কোলে এক শান্ত গ্রাম। তার নাম কোচো। নাদিরা থাকতেন সেই গ্রামে। ২০১৪ সালের অগাস্টে একদিন তাঁদের গ্রামে হানা দিল আইসিস। তখন থেকে গ্রামের আরও সকলের মতো তাঁরও জীবনে নেমে এল দুঃস্বপ্ন।
জঙ্গিরা মনে করে, ইয়াজদিরা ধর্মদ্রোহী। তারা কোচো গ্রামে ঢুকে পুরুষদের হত্যা করল। শিশুদের বেঁধে নিয়ে গেল। তাদের ট্রেনিং দিয়ে সেনাবাহিনীতে ভর্তি করবে। মেয়েদেরও বন্দি করে নিয়ে গেল। তাদের যৌনদাসী করে রাখা হবে।
নাদিরাকে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় ইরাকের মসুলে। এক সন্ত্রাসবাদীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়। সেই লোকটা প্রায়ই নাদিরাকে মারত। আরও নানাভাবে অত্যাচার করত।
মসুলের বাসিন্দা এক পরিবার দয়া করে নাদিরার জন্য ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করে দেয়। তার সাহায্যে তিনি পালিয়ে আসেন ইরাকি কুর্দিস্তানে। সেখানে ইয়াজদি উদ্বাস্তুদের জন্য ত্রাণশিবির ছিল। সেখানে নাদিরা জানতে পারেন তাঁর মা ও ছয় ভাই খুন হয়ে গিয়েছেন । ইয়াজদি উদ্বাস্তুদের সাহায্য করে এমন এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহায়তায় নাদিরা যান জার্মানিতে। সেখানে তার বোনকে খুঁজে পান। এখনও তিনি জার্মানিতেই থাকেন।

তিনি এখন রাষ্ট্রসঙ্ঘের শুভেচ্ছা দুত। আওয়ার পিপলস ফাইট নামে এক আন্তর্জাতিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এখনও তিন হাজার ইয়াজদি জঙ্গিদের হাতে বন্দি। তাদের মুক্ত করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন নাদিরা। ২০১৬ সালে নাদিরা তাঁর বন্ধু লামিয়া হাজি বাশার সঙ্গে যৌথভাবে পেয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শাখারভ হিউম্যান রাইটস প্রাইজ।
গত অগাস্টে তিনি ঘোষণা করেছেন, আবিদ সামাদিন নামে এক ইয়াজদি সমাজকর্মীকে বিয়ে করবেন শীঘ্র।