পাড়ার বাসিন্দারাও পুলিশকে জানিয়েছে, “ও কখনওই শিশুদের পছন্দ করত না। নাতনিকে কারও সঙ্গে মিশতে দিত না, ঘরবন্দি করে রাখত।”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 20 October 2025 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার সন্ধে। সোনারপুর (Sonarpur) থানার কোদালিয়া কদমতলায় আচমকা চিৎকারে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। স্থানীয়রা ছুটে এসে যা দেখেন, তাতে হিমশীতল হয়ে যায় শরীর। ঘরের মেঝেতে রক্তে ভেসে পড়ে আছে চার বছরের এক শিশুকন্যা। শরীরে একাধিক কোপ। তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা জানান, “অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।”
আর তারপরই সামনে আসে এক বিভীষিকাময় তথ্য—এই খুনের অভিযোগ উঠেছে মেয়েটির দাদুর (৭৬) বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই অপরাধ কবুল করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, “নাতনি কাউকে পছন্দ করত না, খেলত, কথা বলত—এসব সহ্য হত না।” তাই খুন করেছেন!
ঘটনার সময় শিশুটির বাবা ও মা কাজে ছিলেন। মা একটি বেসরকারি হাসপাতালে, বাবা কলকাতার একটি ইলেকট্রনিক্স দোকানে কর্মরত। বাড়িতে মেয়েটির সঙ্গে ছিলেন দাদু, দিদা ও এক পরিচারিকা।
পুলিশ তিনজনকেই থানায় নিয়ে গিয়ে জেরা করে। বৃদ্ধ স্বীকার করেন, কারও প্ররোচনায় নয়, একেবারে নিজের সিদ্ধান্তেই খুন করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের (পকসো) ধারাসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। দিদা ও পরিচারিকাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পাড়ার বাসিন্দারাও পুলিশকে জানিয়েছে, “ও কখনওই শিশুদের পছন্দ করত না। নাতনিকে কারও সঙ্গে মিশতে দিত না, ঘরবন্দি করে রাখত।”
পুলিশ ও চিকিৎসকদের ধারণা, এই খুন পূর্বপরিকল্পিত না হলেও, দীর্ঘদিনের মানসিক অসুস্থতা থেকে ঘটেছে। অভিযুক্ত মানসিকভাবে স্থিতিশীল কি না, তা জানতে মেডিক্যাল টেস্ট করানো হবে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে জানা যাবে ঠিক কী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল আর কখন খুনটি ঘটেছে।