বৃহস্পতিবার রাতে সুখিরানি দাস তাঁর ঘরের সামনে বসেছিলেন। আচমকাই লাগোয়া জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে ওই মহিলাকে আক্রমণ করে হাতিটি। শুঁড়ে তুলে মাটিতে আছাড় মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার।

শেষ আপডেট: 31 October 2025 16:05
মাদারিহাটে বুনো হাতির তাণ্ডবে এক সপ্তাহে মৃত্যু হল চারজনের। আতঙ্ক গ্রাস করেছে গোটা এলাকা। গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার হাতির হানায় একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে এই অঞ্চলে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতেও বুনো হাতির তাণ্ডবে প্রাণ হারান এক মহিলা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা নাগাদ আচমকাই বোমা ফাটার মতো আওয়াজ শোনা যায়। সেই শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন সুখিরানি। মুহূর্তেই সামনে এসে পড়ে একটি দাঁতাল হাতি। কিছু বোঝার আগেই মহিলাকে পিষে দেয়।
চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন বাইরে এসে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওই মহিলা। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় মাদারিহাট গ্রামীণ হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, মৃত্যু হয়েছে তাঁর। জলদাপাড়া বন বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, গত দু-দিন ধরে এলাকায় বুনো হাতির আনাগোনা বেড়েছে। জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের ডিএফও প্রবীণ কাসওয়ান বলেন ,“হাতির হানা রুখতে এলাকায় বনকর্মীদের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
গত বুধবার, ২২ অক্টোবর গভীর রাতে মাদারিহাট থানার মধ্য খয়েরবাড়ি এলাকায় বুনো হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয় সোনাই মুন্ডা নামের এক মহিলা ও তার দেড় বছরের শিশুকন্যার। কালীপুজোর উৎসব শেষে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে আচমকা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে একটি হাতি। পরিবারের সকলের সামনে সোনাই মুন্ডা ও তাঁর শিশুকে টেনে নিয়ে গিয়ে মাটিতে আছড়ে মারে হাতিটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মা-মেয়ের।
স্ত্রী ও শিশুকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেন স্বামী সীতারাম মুন্ডা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিন সন্ধেবেলাতেও ওই একই এলাকায় হাতির হানায় আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। অর্থাৎ একদিনেই তিনজনের প্রাণহানি ঘটে মাদারিহাটে। এক সপ্তাহ না ঘুরতেই আবার বৃহস্পতিবার রাতে হাতির হানায় মৃত্যু হয় একজনের।
বারবার বুনো হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে মাদারিহাট, মধ্য খয়েরবাড়ি ও আশেপাশের গ্রামগুলি। এলাকায় বনকর্মীদের টহলদারি বাড়ানো হলেও গ্রামবাসীদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বিপদ ঘটতে পারে। বারবার এমন ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল বাসিন্দারা। বন দফতরের মাদারিহাট রেঞ্জার শুভাশিস রায় বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মৃতার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’