মৃতদের পরিবারের সদস্য রাজকুমার দোলুই জানান, তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন পুরো বাড়িতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। বাড়ির ভিতরে একটি গ্যাস সিলিন্ডারও ছিল।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 22 December 2025 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘুমের মধ্যেই আগুনে পুড়ে মৃত্যু হল একই পরিবারের চারজনের (Howrah fire incident)। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় ঘর থেকে বেরোনোর কোনও সুযোগই পাননি তাঁরা। হাওড়ার জয়পুর থানার সাউড়িয়া গ্রামে গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার সেরে তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। সেই কারণেই প্রথমে আগুন লাগার বিষয়টি বুঝতে পারেননি (Minor girl death)। রাত প্রায় সাড়ে বারোটা নাগাদ হঠাৎ ঘরের ভিতর আগুন জ্বলে ওঠে। ধীরে ধীরে আগুনের তাপ ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ঘুম ভাঙলেও ততক্ষণে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল। চারজনই ঘরের মধ্যে আটকে পড়েন। বাইরে বেরোনোর কোনও রাস্তা খুঁজে পাননি তাঁরা।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। বালতি ও গামলায় জল এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয় (Howrah fire incident)। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয়দের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হয়নি। খবর দেওয়া হয় দমকল বিভাগে। দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে সব শেষ। শোওয়ার ঘরের ভিতর থেকেই উদ্ধার হয় চারজনের ঝলসে যাওয়া দেহ।
মৃতদের নাম ভাড়ু দোলুই (৭৫), দুধকুমার দোলুই (৫০), রত্না দোলুই (৪৫) এবং শম্পা দোলুই (১৫)। শম্পা স্থানীয় স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একই পরিবারের চারজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তব্ধ গোটা গ্রাম।
মৃতদের পরিবারের সদস্য রাজকুমার দোলুই জানান, তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন পুরো বাড়িতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। বাড়ির ভিতরে একটি গ্যাস সিলিন্ডারও ছিল। মাটির তৈরি বাড়িতে আসবাবপত্র, জামাকাপড়—সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনের তীব্রতার কারণে কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
দমকল ও পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এক মুহূর্তের দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের চারটি প্রাণ ঝরে যাওয়ায় শোকস্তব্ধ সাউড়িয়া গ্রাম। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে দেওয়া সেই আগুনের স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে এলাকাবাসীকে।