এই চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পংতিও তুলে ধরেছেন তিনি। বাংলার সংস্কৃতি, সাহিত্য ও মানুষের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে বিদায়ী রাজ্যপাল জানিয়েছেন, এখানে কাটানো সময় তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

সিভি আনন্দ বোস
শেষ আপডেট: 11 March 2026 13:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Elections 2026) মুখে পদত্যাগ। আর পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ছাড়ার আগে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে আবেগঘন খোলা চিঠি লিখলেন বিদায়ী রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। বুধবার দুপুরেই কলকাতা ছেড়ে কেরলের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা তাঁর। তার আগে সেই চিঠিতে বাংলার সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মহাত্মা গান্ধী (Mahatma Gandhi) এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) কথাও।
মঙ্গলবার ধর্মতলায় ধর্না কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণার পর বিদায়ী রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই সাক্ষাতের পরে সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, আনন্দ বোসকে আবার বাংলায় ফিরে আসার অনুরোধ করেছেন। রাজ্যবাসীর উদ্দেশে লেখা নিজের খোলা চিঠিতেও সেই আবেগের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন বিদায়ী রাজ্যপাল।
চিঠিতে তিনি লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গ এখন তাঁর কাছে দ্বিতীয় বাড়ির মতো। ভবিষ্যতেও এই রাজ্যের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর একটি উক্তি উল্লেখ করে বোস লিখেছেন - বাংলাকে ছেড়ে যাওয়া সহজ নয়, কারণ এই মাটির সঙ্গে তাঁর গভীর টান তৈরি হয়েছে।
এই চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পংতিও তুলে ধরেছেন তিনি। বাংলার সংস্কৃতি, সাহিত্য ও মানুষের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে বিদায়ী রাজ্যপাল জানিয়েছেন, এখানে কাটানো সময় তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন বোস। তিনি লিখেছেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা সফর করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। কখনও সাধারণ মানুষের বাড়িতে বসে খেয়েছেন, কখনও ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। আবার নানা ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করার অভিজ্ঞতাও তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান বলে উল্লেখ করেছেন।
চিঠির শেষ অংশে তিনি বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁর বিশ্বাস, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ আরও উন্নতি ও সম্মানের জায়গায় পৌঁছবে। একই সঙ্গে রাজ্যের মানুষের সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে তিনি লিখেছেন, “মা দুর্গা আমার জনগণকে রক্ষা করুন।”
উল্লেখ্য, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁর পদত্যাগ রাজ্য রাজনীতিতে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে। তাঁর অভিযোগ, পাঁচ বছরের মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও প্রায় দেড় বছর আগে, তাও আবার নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যপালকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আবার বাংলায় ফিরে আসার আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। বিদায়ী রাজ্যপাল বাংলায় ভোট দিতে আসবেন কি না, সে প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভোটের সময় তিনি আসতেই পারেন। এর আগে আনন্দ বোস নিজেও জানিয়েছিলেন, তিনি বাংলার ভোটার এবং নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান।