রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে নিজের সম্পত্তি ও আয়ের চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি।

অভিষেক মনু সিংভি
শেষ আপডেট: 10 March 2026 22:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যসভায় মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে নিজের সম্পত্তি ও আয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং তেলঙ্গানার রাজ্যসভা প্রার্থী অভিষেক মনু সিংভি (Abhishek Manu Singhvi)। তাঁর হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭৪ কোটি টাকা। আর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২,৫৫৮ কোটি টাকা। ৬ মার্চ হায়দরাবাদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় এই হলফনামা দাখিল করেন তিনি।
হলফনামা থেকে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে তাঁর আয়ের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৩৩৩ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ৩৫৯ কোটি টাকা, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ২৯০ কোটি টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তা ছিল ১৫৮ কোটি টাকা।
নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর স্ত্রী অনিতা সিংভি এবং তাঁদের হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (এইচইউএফ)-এর সম্পত্তির বিবরণও দেওয়া হয়েছে। সেখানে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ, ব্যাঙ্ক আমানত, শেয়ার, অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তির তথ্য উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি দায়-দেনা ও অন্যান্য আয়ের উৎসের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, অভিষেক মনু সিংভির বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা মুলতুবি নেই। তবে ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালে যোধপুরে কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদ (সিবিডিটি)-এর করা একটি মামলা এখনও বিচারাধীন। অভিযোগ, খরচের হিসাব ফুলিয়ে দেখিয়ে এবং আয় কম দেখিয়ে কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
হলফনামায় আরও জানানো হয়েছে, আয়কর দফতরের কাছে অভিষেক মনু সিংভির বকেয়া টাকার পরিমাণ ৬৩ কোটিরও বেশি। অন্যদিকে তাঁর অন্যান্য দায়-দেনা মিলিয়ে মোট ৩৫৩ কোটি টাকা।
এছাড়া তাঁর স্ত্রী অনিতা সিংভির নামে আলাদা করে প্রায় ৭২.৯৯ কোটি টাকার দায় রয়েছে বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই দম্পতির কাছে মোট ১৫৯.৯৩ কোটি টাকার গয়না রয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের সংগ্রহে থাকা চিত্রকর্ম ও শিল্পকর্মের মূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে অভিষেক মনু সিংভির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে। ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। উত্তর এলে তা পরে সংযোজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে তাঁর আয়ের এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলের মুখপাত্র অমিত মালব্য সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের হয়ে এবং দিল্লিতে আম আদমি পার্টি-র হয়ে মামলা লড়েই এই বিপুল আয় করেছেন অভিষেক মনু সিংভি।
অমিত মালব্য লেখেন, “ধারা পরিষ্কার—কিছু মানুষের জন্য রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি, আর কিছু নির্বাচিত ব্যক্তির জন্য বিপুল আইনি পারিশ্রমিক; সবটাই হচ্ছে সাধারণ মানুষের খরচে।”
অন্যদিকে তেলঙ্গানা থেকে কংগ্রেসের আর এক রাজ্যসভা প্রার্থী ভেম নরেন্দ্র রেড্ডি-র সম্পত্তির পরিমাণ সিংভির তুলনায় অনেক কম।
তাঁর হলফনামা অনুযায়ী, রেড্ডি পরিবারের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৪০ কোটির কিছু বেশি। তাঁর নিজের অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৪২.৫৭ কোটি টাকা, আর তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২.২৭ কোটি টাকা। এছাড়া প্রায় ২৮ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত এবং অস্থ্রা কৃষ্ণ হসপিটালিটি গ্রুপে ৪০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
৬ মার্চ তেলঙ্গানা থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য কংগ্রেস আবারও অভিষেক মনু সিংভিকে মনোনীত করে। পাশাপাশি দলের দ্বিতীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডি-র উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী ভেম নরেন্দ্র রেড্ডিকে।
বর্তমান রাজ্যসভা সদস্য অভিষেক মনু সিংভি এবং অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার সুরেশ রেড্ডি-র মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৯ এপ্রিল। তেলঙ্গানায় বিধানসভা ও পরিষদ—দুই জায়গাতেই কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই দুই প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।