পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণার দু'দিনের মাথায় তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার-সহ বিশিষ্টজনেরা। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা হাতে তুলে দিয়ে দলে স্বাগত জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ পার্থ ভৌমিক।

শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের
শেষ আপডেট: 17 March 2026 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণার দু'দিনের মাথায় তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার-সহ বিশিষ্টজনেরা। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা হাতে তুলে দিয়ে দলে স্বাগত জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmick)।
এদিন প্রাক্তন ক্রিকেটার শিব শঙ্কর পাল (Shiv Shankar Pal), সাঁওতাল সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ শিক্ষাবিদ তনুশ্রী হাঁসদা, ইসলামিক স্কলার আব্দুল মাতিন।
মঙ্গলবার বিকেলেই বিধানসভা নির্বাচনের (Election Candidate List) প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারে। তার আগেই দলে যোগ দিলেন বিশিষ্টজনেরা। এখন জল্পনা রয়েছে, এঁদের কাউকে কি বিধানসভা ভোটের টিকিট দেবে শাসক দল?
"ভবানীপুরে হারবেন শুভেন্দু অধিকারী!"
সোমবার প্রথম দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি (BJP)। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর থেকে প্রার্থী করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari)। প্রসঙ্গত, ভবানীপুরের বিধায়ক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। যদিও শুভেন্দুর প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামাতে রাজি নয় তৃণমূল।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গে ব্যারাকপুর সাংসদ পার্থ ভৌমিক, শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) ভবানীপুরে প্রার্থী করার জন্য বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে 'কৃতজ্ঞতা' জানান।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2021) নন্দীগ্রাম থেকে বিজেপির শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেজাল্টের দিন গণনা শেষে প্রথমে তাঁকে জয়ী ঘোষণা করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই 'পরাজিত' হন, অল্পকিছু ব্যবধানে জেতেন শুভেন্দু। এরপরই তৃণমূলের তরফে অভিযোগ ওঠে গণনাকেন্দ্রে 'লোডশেডিং' করিয়ে জয় পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। এনিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন সেই লোডশেডিং বিতর্ক টেনে পার্থ বলেন, "লোডশেডিংয়ে জেতা একটা লোক সবসময় বলত আমি মমতাকে হারিয়েছি। এই কথা যাতে আর বলতে না পারে তাই শমীক ভট্টাচার্য তাঁকে ভবানীপুরে প্রার্থী করেছে। তাঁকে যাতে লোকের মুখে শুনতে হয় আপনি এক লক্ষের বেশি ভোটে হেরেছেন।"
"ভয় পেয়েছে, তাই দুই আসনে প্রার্থী"
নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর- দুই বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এনিয়েও কটাক্ষ করে তৃণমূল। পার্থ ভৌমিক বলেন, "শুভেন্দু ভয় পেয়েছে, জানে হেরে যাবে। তাই নন্দীগ্রাম থেকেও প্রার্থী করা হয়েছে। যদি তা না হয়ে থাকে, তবে কেন দুটি আসনে প্রার্থী হল?"
সাংসদ চ্যালেঞ্জ করে বলেন, "শুধু ভবানীপুরে প্রার্থী হয়ে দেখাক, কেন দুটি আসনে? আসলে ওনার মনে ভয় আছে।" যোগ করেন, "নন্দীগ্রাম, ভবানীপুরে তৃণমূলের দু'জন আলাদা প্রার্থী হবে, দুটি আসনই আমরা জিতব।"
এছাড়া, সাংবাদিক বৈঠক থেকে নির্বাচন কমিশন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূলের সাংসদ-মন্ত্রী।