গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কমিশনের (ECI) তরফে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ। সোমবার পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের তথ্য সংক্রান্ত গড়মিল নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 17 March 2026 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ভোট দিয়ে যা, আয় ভোটার আয়’, লিখেছিলেন শরৎ পণ্ডিত। বাংলা সাহিত্যের পাঠক যাঁকে চেনে দাদা ঠাকুর হিসেবে। কিন্তু কথা হচ্ছে যে পক্ষ ভোট চায়, আর যে পক্ষ ভোট (Vote) দেয়, এসআইআর এর ধাক্কায় দু’তরফের অধিকারই ‘বিচারাধীন’। এর ফলে ভোট দেওয়া তো বটেই, এমনকি অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীর মনোনয়ন (Nomination) জমা দেওয়াও প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হওয়ার আশঙ্কায় এবার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বামেরা।
সোমবার বামেরা প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা দিয়েছে। সেই সময়ই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim) জানান, ভোট দেওয়া এবং প্রার্থী হওয়া— উভয়ই নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু, ভোটার তালিকায় নাম বিচারাধীন থাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়ন ব্যাহত হবে। যে কারণে তাঁরা এই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুও (Biman Bose) দাবি তুলেছেন, বিবেচনাধীন তালিকার নিষ্পত্তি করেই তবে ভোটের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
শুধু বামেদেরই নয়। ‘অমীমাংসিত’ তালিকায় তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরেও এই ভোটার তালিকা নিয়ে তীব্র বিস্ময় ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ‘অমীমাংসিত’ ভোটারের তালিকায় নাম উঠে এসেছে খোদ শাসকদলের পাঁচজন সংখ্যালঘু বিধায়কের। জাকির হোসেন (জঙ্গিপুর, প্রাক্তন মন্ত্রী), বাইরন বিশ্বাস (সাগরদিঘি), আবদুর রাজ্জাক (জলঙ্গী), তোরাফ হোসেন মণ্ডল (কুমারগঞ্জ), রফিকুর রহমান (আমডাঙা)
শুধু তাঁরাই নন, খোদ রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজার (Sashi Panja) নামও ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের তালিকায় রয়েছে। ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকলেও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির (logical discrepancy) কারণে তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। আজ তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় তাঁর নাম সেখানে থাকে কি না, এখন সেটাই দেখার।
এদিকে, বাম বা তৃণমূল যখন ভোটার তালিকা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের কথা ভাবছে, বিজেপি তখন প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় বড়সড় চমক দিয়েছে। সোমবার ঘোষিত ১৪৪ জনের তালিকায় দেখা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম কেন্দ্র থেকে দল প্রার্থী করেছে কলিতা মাজিকে। ঘটনা হল, কলিতার নামও বর্তমানে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছে এবং তথ্যগত অসঙ্গতির জন্য তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। পেশায় পরিচারিকা কলিতার প্রার্থী পদ কমিশন শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করে কি না, তার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।
বস্তুত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কমিশনের (ECI) তরফে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ। সোমবার পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের তথ্য সংক্রান্ত গড়মিল নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।
সব মিলিয়ে একদিকে যখন ভোটের প্রচার তুঙ্গে, অন্যদিকে ভোটার তালিকার এই ‘টেকনিক্যাল’ গেরো রাজনৈতিক দলগুলোর কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
এই প্রক্রিয়ায় বর্তমানে ৭০৫ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক কাজ করছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বিচারাধীন তালিকায় থাকা বাকি ভোটারদের তথ্য দ্রুত যাচাইয়ের কাজ চলছে। আগামী সাত দিনের মধ্যেই বিবেচনাধীন ভোটারদের প্রথম পরিপূরক তালিকা প্রকাশ করতে পারে কমিশন।