বছরের পর বছর ধরে এমন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার জানানো হলেও কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। স্থানীয় পঞ্চায়েত বা বিধায়ক, কারও কাছ থেকেই মিলছে না স্থায়ী আশ্বাস।

এভাবেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রোগী - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 31 July 2025 17:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাগাতার বৃষ্টিতে জলমগ্ন (Flood Situation) বাদুড়িয়ার (Baduria) চাতরা পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রাম। কোথাও হাঁটু, কোথাও আবার কোমর সমান জল। এতটাই দুরবস্থার ছবি, যে অসুস্থ রোগীকে কলার ভেলায় করে নিয়ে যেতে হচ্ছে হাসপাতালে। এটাই এখন গ্রামের ‘অ্যাম্বুল্যান্স’ (Ambulance)।
মির্জাপুর, পাপিলা, কোটালবেড়িয়া, রসুই, পোতাপাড়া — চাতরা পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই সমস্ত গ্রামে কার্যত জনজীবন বিপর্যস্ত। চাষের জমি, রাস্তাঘাট, এমনকি বসতঘর, সবই জলের তলায়। ঘর থেকে বেরোতে পারছেন না কেউ, স্কুলে পৌঁছতে শিশুদের কাঁধে তুলে নিয়ে যেতে হচ্ছে অভিভাবকদের। বহু শিশু স্কুলে যেতে পারছেই না।
জল জমে রয়েছে দিনের পর দিন। বৃষ্টির জলে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে পাকা ফসল। জমিতে নামা যাচ্ছে না। একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে পড়েছে দৈনন্দিন জীবন। কাজ বন্ধ, চাষ বন্ধ, বাড়িতে ঢুকে পড়েছে সাপ ও পোকামাকড়।
বছরের পর বছর ধরে এমন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার জানানো হলেও কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। স্থানীয় পঞ্চায়েত বা বিধায়ক, কারও কাছ থেকেই মিলছে না স্থায়ী আশ্বাস। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছে এলাকার মানুষ।
যদিও চাতরা পঞ্চায়েতের প্রধান আসলাম উদ্দিন বলেন, “ইছামতি, যমুনা ও পদ্মা খালে পলি জমে জল ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে বলেই এমন পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই ইছামতি নদীর সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এরপর হবে পদ্মা ও যমুনার সংস্কার। তখন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।”
কিন্তু যতদিন না সেই কাজ শেষ হচ্ছে, ততদিন বাদুড়িয়ার চাতরায় বর্ষা মানেই জীবন বিপন্ন।