দ্য ওয়াল ব্যুরো : পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসে দীর্ঘদিন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের পরে শনিবার সকালে হাইকম্যান্ড (High Command) মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং-কে পদত্যাগ করতে বলে। জুলাই মাসে অমরিন্দরের প্রতিপক্ষ নভজ্যোৎ সিং সিধুকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি নিয়োগ করা হয়। তখনই পর্যবেক্ষকদের অনেকে বলেছিলেন, ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-এর পতন আসন্ন। তাঁদের ধারণা, মোট পাঁচটি কারণে পদ খোয়ালেন ৭৯ বছর বয়সী ক্যাপটেন।
মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা
ক্ষমতায় আসার আগে কংগ্রেস ঘোষণা করেছিল, পাঞ্জাবে মাদকের রমরমা বন্ধ করবে। এছাড়া ধর্মের অবমাননার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দেবে। কিন্তু চার বছর বাদেও ড্রাগ পাচারকারীদের সক্রিয়তা বন্ধ করা যায়নি।
২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর বারগরি নামে এক জায়গায় শিখদের পবিত্র গ্রন্থ গুরু গ্রন্থ সাহিবের অবমাননা করা হয়। ওই ঘটনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত জনতার উদ্দেশে গুলি চালায় পুলিশ। গত এপ্রিলে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট গুলি চালনার ঘটনায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদলকে ক্লিনচিট দেয়। তখন অমরিন্দর সিং-এর বিরুদ্ধে সরব হন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা কংগ্রেস নেতা নভজ্যোৎ সিং সিধু। তিনি বলেন, ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-এর আমলে গুরু গ্রন্থসাহিবের অসম্মান করার মামলায় পুলিশ যথাযথ তদন্ত করেনি।
বিধায়কদের ক্ষোভ
গত চার বছর ধরে বিধায়করা অভিযোগ করে আসছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সহজে দেখা করা যায় না। তিনি ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সঙ্গে ছাড়া বিশেষ কথাই বলেন না। একসময় চণ্ডীগড়ে সচিবালয়ে যাওয়াও বন্ধ করে দেন অমরিন্দর। শহর থেকে দূরে নিজের বাসস্থান সরিয়ে নিয়ে যান।
আমলাদের ওপরে অতি নির্ভরতা
বিধায়কদের অভিযোগ, অমরিন্দর সিং একসময় সরকার চালানোর পুরো দায়িত্বই তুলে দিয়েছিলেন আমলাদের হাতে। বিধায়কদের না জানিয়েই অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হত। ২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী সুরেশ কুমার নামে এক আইএএস অফিসারকে তাঁর চিফ প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি হিসাবে নিয়োগ করেন। ওই পদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিবের সমান। হাইকোর্ট ওই নিয়োগ বাতিল করে দেয়। সুরেশ কুমার ইস্তফা দেন। কিন্তু সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে।
সমীক্ষা কী বলছে
কয়েকমাস আগে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড একটি সংস্থাকে দিয়ে পাঞ্জাবে সমীক্ষা করিয়েছিল। তাতে জানা যায়, ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-এর জনপ্রিয়তা কমছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকলে ২০২২ সালে পাঞ্জাবে বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের জেতা মুশকিল হবে।
বেশিরভাগ বিধায়কই বিপক্ষে
ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-এর প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন সিধু। এছাড়া তিন মন্ত্রী, ত্রিপ্ত রাজিন্দর সিং বাজওয়া, সুখবিন্দর সারকারিয়া এবং সুখজিন্দর রণধাওয়াও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্রমাগত প্রচার চালিয়েছেন। ফলে দলের বেশিরভাগ বিধায়ক যোগ দেন অমরিন্দরত সিং-এর বিপক্ষ শিবিরে। এই অবস্থায় হাইকম্যান্ড আর অমরিন্দর সিং-কে মুখ্যমন্ত্রী পদে রাখতে চায়নি।