দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম বলি কি কর্নাটকের সৌদি-ফেরত বৃদ্ধ! রিপোর্টের অপেক্ষায় চিকিৎসকরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এই প্রথম কারও মৃত্যু হল দেশে! কর্নাটকের কালবুর্গী জেলার বাসিন্দা, ৭৬ বছরের মহম্মদ হুসেইন সিদ্দিকির মৃত্যুর খবর আসার পরে এমনটাই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। কর্নাটকের রাজ্য স্বাস্থ্য কল্যাণ দফতর জানিয়েছে
শেষ আপডেট: 11 March 2020 08:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এই প্রথম কারও মৃত্যু হল দেশে! কর্নাটকের কালবুর্গী জেলার বাসিন্দা, ৭৬ বছরের মহম্মদ হুসেইন সিদ্দিকির মৃত্যুর খবর আসার পরে এমনটাই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। কর্নাটকের রাজ্য স্বাস্থ্য কল্যাণ দফতর জানিয়েছে, ওই বৃদ্ধ অসুস্থ হওয়ার পরে এবং তাঁর অসুস্থতার লক্ষণগুলি করোনাভাইরাসের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছিল বেঙ্গালুরুর একটি ল্যাবে। সেই রিপোর্ট এখনও আসেনি।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি তীর্থ করতে সৌদি আরব গিয়েছিলেন সিদ্দিকি। সেখান থেকে ফেরার পরেই জ্বর-সর্দি শুরু হয় তাঁর। হাল্কা শ্বাসকষ্টও ছিল। কোনও ঝুঁকি নেননি চিকিৎসকরা। আইসোলেশনে পাঠিয়ে রক্তপরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠান। তবে সে নমুনায় করোনাভাইরাস ছিল কিনা, তা জানার আগেই মারা গেলেন বৃদ্ধ। এখন সত্যিই তিনি করোনার শিকার কি না, তা জানা যাবে রিপোর্ট আসার পরেই।
দিন কয়েক আগে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলা হাসপাতালেও এক যুবক মারা যাওয়ার পরে আতঙ্ক ছড়ায় করোনাভাইরাসের। তিনিও সৌদি থেকে ফিরেছিলেন। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পরে যখন পুণে থেকে রিপোর্ট আসে রক্তপরীক্ষার, তখন জানা যায় রক্তে অতিরিক্ত সুগারই যুবকের মৃত্যুর কারণ। সাময়িক ভাবে স্বস্তি মেলে।
অন্যদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশই বেড়ে চলেছে ভারতে। কেরলে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছয়। কর্নাটকে মঙ্গলবার তিনজনের শরীরে ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে। পুণেতে সোমবারই দু’জন আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছিল। পুণে, কেরল, কর্নাটক মিলিয়ে নতুন ভাইরাস সংক্রামিতের সংখ্যা ১১। জম্মু-কাশ্মীরেও এক করোভাইরাস আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সব মিলিয়ে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল ৬০।
উহান ফেরত কেরলের তিন ছাত্রের মধ্যে প্রথম করোনাভাইরাসের খোঁজ মিলেছিল। সংক্রমণ ছড়ানোর আতঙ্কে ঘরবন্দি ছিলেন অন্তত ৪০০ জন। ধীরে ধীরে কেরলেও ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ। কেরলে মোট কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ১১১৬ জনকে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, সংক্রমণ সন্দেহে রাজ্যের ১৪৯টি হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে তাঁদের। প্রতিটি হাসপাতালে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড। রোগীদের চিকিৎসার জন্য রয়েছে অভিজ্ঞ ডাক্তারের টিম। আক্রান্তদের দেহরসের নমুনা পাঠানো হয়েছে পুণের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে।
ইরান থেকে বায়ুসেনার সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমানে চাপিয়ে আজ সকালেই দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ৫৮ জনকে। ইরান ফেরত এই ভারতীয়দের মধ্যে কোনও সংক্রমণ ধরা পড়েনি বলেই স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর। তবে এখনই তাঁদের বাড়ি ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। কিছুদিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হতে পারে।
সরকারি সূত্রে খবর, হাসপাতালগুলির উপর থেকে চাপ কমাতেই দেশের ৩৭টি জায়গায় ৫৪৪০ বেডের বিশাল কোয়ারেন্টাইন সেন্টার বানানোর জন্য সিএপিএফকে (সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স) নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। তাছাড়াও সেন্টার রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স, সিআইএসএফ (সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স), ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ, সশস্ত্র সীমা বল ও এনএসজি (ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড)-কে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে ৭৫টি আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।