
ফিরহাদ হাকিম
শেষ আপডেট: 23 December 2024 14:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার ভারত উপমহাদেশীয় শাখা আনসার উল্লাহ বাংলা টিমটি ভারত জুড়ে নাশকতার ছক কষছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত ১০ ডিসেম্বর 'অপারেশন প্রঘাত' শুরু করে অসম পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গত ১৭ এবং ১৮ ডিসেম্বর, দু'দিনের অভিযানে অসম, কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৮ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলায় জঙ্গি মডিউল তৈরির চেষ্টার অভিযোগে মুর্শিদাবাদ থেকে দু'জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী দেখে আর জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ নিশ্চিত যে তারা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
সেই সংগঠন আর অন্য কোথাকার নয়, বাংলাদেশের! কীভাবে ওপার বাংলা থেকে নির্দেশ পেয়ে এবার বাংলায় সন্ত্রাস ছড়ানোর পরিকল্পনা হচ্ছে, তা সাংবাদিক বৈঠকে বিস্তারিত জানিয়েছেন এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতীম সরকার। কীভাবে বা কোন কায়দায় এরা সীমানা পেরিয়ে বাংলায় এসে দুষ্কৃতীমূলক কার্যকলাপ চালাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। আর এর পুরো দায় চাপালেন কেন্দ্রের ঘাড়ে।
ফিরহাদের কথায়, 'বর্ডার সিকিওরিটি ফোর্স সীমানা রক্ষা করে। সবটা দেখার দায়িত্ব কেন্দ্রের। বিএসএফ যদি অনুমতি না দেয় বা সিল করে দেয় তাহলে কোনও জঙ্গি বাংলাদেশ থেকে এখানে আসতে পারবে না। আসামে আসাম পুলিশ আর বাংলায় আমাদের পুলিশ অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে প্রশাসন তাঁরা জঙ্গি ধরেছে। দেশের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে আমাদের জিরো টলারেন্স। আগে আমাদের দেশ আর দেশের সুরক্ষা। সেই কাজটা বাংলার পুলিশ করবে।'
ববির কথায় উঠে আসে আম্বেদকরকে নিয়ে করা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের বিরুদ্ধে কটাক্ষও। এক প্রকার অমিত শাহকে উপদেশ দেওয়ার সুরে তিনি জানান, 'বাবা আম্বেদকরকে তাচ্ছিল্য না করে তাঁর প্রণীত সংবিধান মেনে দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করুন।'
একদিন আগেই কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেছিলেন, 'এখনই পদক্ষেপ না করলে বঙ্গের সীমান্ত জেলা মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের অধিকাংশ এলাকা ওপার বাংলার অংশ বলে দাবি করবে বাংলাদেশ।' এ ব্যাপারে ফিরহাদের সাফ কথা, 'বাংলাদেশ আসলে কুয়োর ব্যাঙ। ওরা জানেই না ভারতের কতটা শক্তি রয়েছে। ভারতের পুলিশ, প্রশাসন, বাংলাদেশের এই মনস্কামনা কোনও দিন পূরণ হতে দেবে না। অধীর ওপারের কথা যা খুশি বলুন, আমাদেরদেশ শক্তিশালী, রাজ্যের পুলিশ শক্তিশালী। ভারতের প্রত্যেক ইঞ্চির দিকে সে চিন তাকাক, পাকিস্তান তাকাক বা এখনের বাংলাদেশের কেউ কেউ তাকাক, একেবারে চোখ উপড়ে ফেলে দেওয়া হবে।'