নতুন বছরের প্রথম সকালে তিলোত্তমার বাতাস অত্যন্ত খারাপ। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সূত্রে খবর, কলকাতা ও হাওড়ার একাধিক এলাকায় অতি সূক্ষ ধূলিকণা সহনসীমার বহু গুণ উপরে উঠে গিয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 January 2026 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত বারোটা বাজতেই পাল্টে যায় মেজাজ। চারিদিকে আলোর ঝলকানি, দুমদাম ফাটল আতসবাজি, ছিল শব্দবাজিও। নতুন বছরকে স্বাগত জানাল শহরবাসী। বাদ গেল না হাওড়া, হুগলি, উত্তর বা দক্ষিণ ২৪ পরগনাও। আর এই আনন্দের মাঝে অজান্তেই দিল্লিকে ছাপিয়ে গেল কলকাতার দূষণের মাত্রা।
নতুন বছরের প্রথম সকালে তিলোত্তমার বাতাস অত্যন্ত খারাপ। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (Central Pollution Control Board) সূত্রে খবর, কলকাতা ও হাওড়ার একাধিক এলাকায় অতি সূক্ষ ধূলিকণা (PM 2.5) সহনসীমার বহু গুণ উপরে উঠে গিয়েছে। নতুন বছরের বাতাসে মারাত্মকভাবে মিশছে বিষ। সবচেয়ে দূষিত কলকাতার যাদবপুর (Jadavpur)। সেখানে প্রতি ঘনমিটারে অতি সূক্ষ ধূলিকণার মাত্রা ৩৮০ মাইক্রোগ্রাম।
হাওড়ার অবস্থা আরও ভয়াবহ। ঘুসুড়ি (Ghusuri) এলাকায় প্রতি ঘনমিটারে ৪২৭ মাইক্রোগ্রাম অতি সূক্ষ ধূলিকণা। বেলুড় মঠ (Belur Math) অঞ্চলের একিউআই-ও ৩৯০ মাইক্রোগ্রাম। অর্থাৎ কলকাতার চেয়েও বেশি দূষণ হাওড়ায়।
পরিবেশবিদদের মতে, শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়া (Dry Weather) থাকায় ধূলিকণার মাত্রা সাধারণত কিছুটা বেশি থাকে। কিন্তু এ বছর সেই মাত্রা অস্বাভাবিক। বিশেষ করে ভিক্টোরিয়া (Victoria) ও ময়দান (Maidan) অঞ্চলে বাতাসের স্বাস্থ্য ভাল নয় অনেকদিন ধরেই। ভোরের দিকে এই এলাকাগুলোতে বাতাসের গুণমান সূচক (Air Quality Index) পৌঁছে যাচ্ছে ১৪৬-এ।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. স্বাতী নন্দী চক্রবর্তীর বক্তব্য, ভোরে যে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে, তা আসলে ধোঁয়াশা (Smog)। ধূলিকণা জমেই এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। উত্তুরে হাওয়ার জোর থাকলে এই ধূলিকণা সরে যায়। কিন্তু হাওয়ার গতি কম থাকায় সেগুলি একই এলাকায় আটকে থাকছে। সাধারণত শীতে শিশির (Dew) পড়লে ধূলিকণার সঙ্গে মিশে বাতাস কিছুটা পরিষ্কার হয়। কিন্তু শীতের খামখেয়ালিপনায় এবার শিশিরও ঠিকমতো পড়ছিল না। এই পরিস্থিতি একটু ভাল হলেও লাভ হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন সকলকে। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের (RG Kar Medical College) পালমোনারি মেডিসিন বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ডাঃ সুস্মিতা কুণ্ডু (Dr Susmita Kundu) জানিয়েছেন, শীতের ভোরে প্রাতঃভ্রমণ (Morning Walk) এড়িয়ে চলাই ভাল। ভোরে মাটির কাছের বাতাস ঠান্ডা ও ভারী হয়ে থাকে। ফলে দূষণকণা উপরের দিকে উঠতে পারে না। ঘন কুয়াশা সেই কণাগুলিকে আটকে রাখে। তার উপর শীতে কাঠকয়লা (Charcoal) পোড়ানোও বাড়ে। সব মিলিয়ে ভোরের বাতাসে ক্ষতিকারক দূষণকণার মাত্রা থাকে মাত্রাছাড়া।
চিকিৎসকের পরামর্শ, ভোর পাঁচটা বা সাড়ে পাঁচটার বদলে রোদ ওঠার পর হাঁটতে বেরোন। ভোরে বেরোতেই হলে মাস্ক (Mask) ব্যবহার করা জরুরি।
আরেক পরিবেশবিদের দাবি, রবীন্দ্র সরোবরের (Rabindra Sarobar) মতো এলাকাতেও এখন দূষণমাত্রা লাগামছাড়া। সকালে বর্জ্য পোড়ানো (Waste Burning), লেক চত্বরে দোকান বেড়ে যাওয়া এবং মেট্রোর কাজের (Metro Work) জেরে ভিক্টোরিয়া ময়দান অঞ্চলে দূষণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। সন্ধে থেকে ভোর পর্যন্ত দূষণমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। শীতে বাতাসে আর্দ্রতা (Humidity) কম থাকলেও সাধারণত রাতে শিশির পড়ে ধূলিকণা জলীয় কণায় পরিণত হয়। কিন্তু এবার শিশির না পড়ায় ধূলিকণাগুলি জমে ধোঁয়াশা তৈরি করছে, যা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর।
কোথায় কত দূষণ (PM 2.5)