
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 26 February 2024 10:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালির বেড়মজুরে সদ্য সাংগঠনিক দায়িত্ব হয়েছে তৃণমূল নেতা হলধর আড়িকে। এবার তাঁর বাড়ির পাশে খড়ের গাদাতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল। হলধরের বাড়ির সামনে তাই পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
দুর্নীতির অভিযোগে সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা অজিত মাইতিকে সোমবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অজিতের বাড়ির অনতিদূরে হলধরের বাড়ি।
অজিত মাইতিকে রবিবার অঞ্চল সভাপতির পদ থেকে সরানোর কথা ঘোষণা করা হয়। তার পর বেড়মজুর ১ নম্বর অঞ্চলে তৃণমূলের আহ্বায়ক পদে নিযুক্ত করা হয় হলধর আড়িকে। তার পর পরই হলধর আড়ির বাড়ি কাছে খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সোমবার সকালে দেখা যায়, এর পর হলধরের বাড়ির সামনে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সন্দেশখালির কয়েকটি অঞ্চলে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছিল তা এখন বেশ স্পষ্ট। শেখ শাহজাহান ও তার ভাই সিরাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে মানুষের অসন্তোষ তো ছিলই। এখন দেখা যাচ্ছে, শুধু সেই দুজন নয়, জমি দখলকে আরও কিছু স্থানীয় নেতার উপর মানুষের রাগ রয়েছে।
কৌশলগত পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন এবং শাসক দল সেই ক্ষোভের হাওয়া এখন ক্রমশই প্রশমিত করার চেষ্টা করছেন। সে কারণে সিরাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে যেমন নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তেমনই স্থানীয় নেতা অজিত মাইতিকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে তণমূল।
রবিবার দুপুরবেলা গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে এলাকার এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়িতে লুকিয়েছিলেন বেড়মজুরের অঞ্চলের তৃণমূল নেতা অজিত মাইতি। পুলিশ সেই বাড়ি প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে ঘিরে রেখেছিল। পরে সন্ধে হতেই অজিত মাইতিকে আটক করে পুলিশ।
অজিতের বিরুদ্ধে জমি দখল ও জালিয়াতি করে জমি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগে দুদিন আগেই তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। অজিত মাইতিকে জুতো পেটা করা হয়েছিল।
রবিবার ফের গ্রামবাসীদের ঘিরে ধরেন অজিত মাইতিকে। ওই নেতা যখন সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়িতে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে, তখন বাইরে পুলিশের সামনেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। অজিতের অবশ্য দাবি, সিরাজউদ্দিনই যত কাণ্ড করেছে। তার সঙ্গে থেকে সেও পচা আলু হয়ে গেছে।
সোমবার দেখা গেল, অজিতকে সরিয়ে হলধর আড়িকে এনেও স্বস্তি মিলছে না। তবে তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা মনে করছেন, অজিতকে গ্রেফতারের পরেও উত্তেজনা জিইয়ে রাখতে পিছন থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে। এর নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে।