কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “বকেয়া ডিএ নিয়ে এতদিন শুধু টালবাহানা হয়েছে। এবার যাতে আর কোনও অজুহাত না থাকে, সেই কারণেই আমরা নিজেরা এসে রায়ের কপি তুলে দিলাম।”

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 5 February 2026 18:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সরকারি কর্মচারীদের ‘মৌলিক অধিকার’—এই ঐতিহাসিক স্বীকৃতির পর রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে উত্তেজনা। ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) মাইলফলক রায় (DA Verdict) প্রকাশ্যে আসতেই বৃহস্পতিবার বিকেলে নবান্নে (Nabanna) হাজির হলেন সরকারি কর্মচারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম (Firdous Shamim)। সঙ্গে ছিলেন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের (Employees organizations act) প্রতিনিধিরা।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের কপি আপলোড হতেই তা ডাউনলোড করে সোজা নবান্নের পথে রওনা দেন তাঁরা। প্রশাসনিক মহলে এই আগমন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ছড়ায়।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিরদৌস শামিম জানান, শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মার্চের মধ্যে এবং বাকি ৭৫ শতাংশ মে মাসের মধ্যে রাজ্যকে মেটাতে হবে। সেই নির্দেশের কথা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতেই রায়ের প্রতিলিপি হাতে নবান্নে আসা।
পাশে দাঁড়িয়ে কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “বকেয়া ডিএ নিয়ে এতদিন শুধু টালবাহানা হয়েছে। এবার যাতে আর কোনও অজুহাত না থাকে, সেই কারণেই আমরা নিজেরা এসে রায়ের কপি তুলে দিলাম।”
রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতরে কর্মচারী সংগঠনের নেতৃত্ব ও তাঁদের আইনজীবীর এই দ্রুত উপস্থিতিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে, ভোটের বছরে এই রায় যে রাজ্যের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করল, তা মানছেন অনেকেই।
এদিকে, ডিএ মামলার রায় প্রসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা এখনও রায়ের কপি হাতে পাইনি। আগে সেটি ভাল করে স্টাডি করতে দিন।” তিনি আরও জানান, যে কমিটি এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেখানে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির পাশাপাশি ক্যাগের প্রতিনিধি ছিলেন, কিন্তু রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি ছিলেন না। তাই আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আদালত মে মাস পর্যন্ত সময় দিয়েছে। তার মধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে রাজ্য কীভাবে এগোবে, তা স্থির করা হবে।