তনুশ্রী মোদক ভট্টাচার্য নামে এক মহিলা বিএলও বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগে বিরোধী দলনেতার ভূমিকাও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, সেদিন তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 February 2026 11:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার বিকেলে রাজ্যের সিইও দফতরে (West Bengal SIR) গেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর তাঁর প্রবেশ ঘিরেই চত্বরে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান কর্মসূচি চালাচ্ছিল ‘বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি’র একাংশ। তাঁদের মধ্যেই কয়েকজন বিরোধী দলনেতাকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে শুরু করেন। অভিযোগ, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে তাঁর দিকে জুতো ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।
এই ঘটনার পর বিজেপির পক্ষ থেকেও সমর্থকরা দফতরের (BJP Supporters Protest) বাইরে জড়ো হন এবং পাল্টা প্রতিবাদে সামিল হন। এরপর শাসকদলের তরফে অভিযোগ তোলা হয়, বিজেপির পতাকা হাতে একদল দুষ্কৃতী সিইও দফতরের সামনে অশান্তি সৃষ্টি করে। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা, কুরুচিকর আচরণ এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ছোড়ার অভিযোগও সামনে আসে।
এই প্রেক্ষাপটে তনুশ্রী মোদক ভট্টাচার্য নামে এক মহিলা বিএলও বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Woman BLO FIR) দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগে বিরোধী দলনেতার ভূমিকাও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, সেদিন তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। সেই সময়ই একদল ব্যক্তি হামলা চালায় এবং বিশেষ করে মহিলা শিক্ষিকাদের উদ্দেশে অশালীন ও কুরুচিকর আচরণ করে।
অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, এই ঘটনা শুধু সাধারণ আইনভঙ্গ নয়, বরং দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মী এবং নারী শিক্ষিকাদের ওপর সরাসরি আঘাত। তাঁর মতে, এমন আচরণ আইনের শাসন ও সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থী। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া সরকারি কর্মীদের উপর হামলা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে গভীর উদ্বেগের বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগপত্রে প্রশাসনের কাছে পাঁচটি স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, চিহ্নিত ও অচিহ্নিত সব অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অবিলম্বে অভিযোগ নথিভুক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নিরপেক্ষ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত শুরু করতে হবে। তৃতীয়ত, সংশ্লিষ্ট এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য বৈদ্যুতিন প্রমাণ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে হবে। চতুর্থত, আইন অনুযায়ী কঠোর ও পক্ষপাতহীন ব্যবস্থা নিতে হবে। পঞ্চমত, আক্রান্ত বুথস্তরের শিক্ষকদের, বিশেষ করে যাঁরা হেনস্থা ও ভীতির শিকার হয়েছেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনায় অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। দ্রুত ও কড়া পদক্ষেপ না নিলে সমাজবিরোধী শক্তির সাহস বাড়বে এবং আইনশৃঙ্খলার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।