প্রসঙ্গত, কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই শ্রাবন্তীর বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস জারি করেছিলেন। সেই শোকজ চ্যালেঞ্জ করে শ্রাবন্তী কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। বুধবার আদালত ওই শোকজে আট সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেয়।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 18 September 2025 20:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রানি বিড়লা গার্লস কলেজের অধ্যক্ষা শ্রাবন্তী ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে এবার তফসিলি জাতিভুক্ত এক অধ্যাপক শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করলেন। শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কলেজের হিন্দির অধ্যাপক মন্টু দাস। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র জাতিগত পরিচয়ের জন্যই তাঁকে নানা ভাবে হেনস্থা করেছেন প্রিন্সিপাল। এমনকি, পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধিও আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
২০১৪ সাল থেকে ওই কলেজে অধ্যাপনায় যুক্ত মন্টুবাবু। তিনি জানিয়েছেন, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শ্রাবন্তী ভট্টাচার্য কলেজের প্রিন্সিপাল হয়ে আসার পর থেকেই শুরু হয় ঝামেলা। অভিযোগ, ‘‘ওঁর ঘরে গেলে আমাকে বসতে দিতেন না। ‘চামার’ বলে অপমান করতেন। কলেজের এসসি-এসটি সেলে আমার নাম নথিভুক্ত হতে দেননি। বারবার বলেছেন, আমার জাতিগত শংসাপত্র ভুয়ো। ছাত্রছাত্রীদের সামনেই অপমান করেছেন।’’
মন্টুবাবুর দাবি, বিষয়টি তিনি কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে গিয়ে জানান। মৌখিক ভাবে বিষয়টি জানান বিকাশ ভবনেও। তাঁর কথায়, “আমি কলেজের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করেছি বলেই আমাকে টার্গেট করা হয়েছে।”
শুধু মন্টুবাবু নন, কলেজের আর এক অধ্যাপক কনককুমার জানাও শ্রাবন্তীর বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। তাঁর কথায়, “আমাকে কুকথা বলতেন, দুর্ব্যবহার করতেন। আমি কলেজ প্রশাসককে জানিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, ওঁর (শ্রাবন্তীর) থেকে দূরে থাকতে। এরপর জাতীয় কমিশনে অভিযোগ জানাই। ওখান থেকে উত্তর চাওয়া হলেও উনি এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও জবাব দেননি।”
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে প্রিন্সিপাল শ্রাবন্তী ভট্টাচার্য বলেন, “এই অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা। এর বাইরে আর কিছু বলব না। বিষয়টি বিচারাধীন।”
প্রসঙ্গত, কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই শ্রাবন্তীর বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস জারি করেছিলেন। সেই শোকজ চ্যালেঞ্জ করে শ্রাবন্তী কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। বুধবার আদালত ওই শোকজে আট সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেয়। পাশাপাশি, কাজরীর সভাপতিপদ নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। জানায়, “শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত” না হলে এই পদে থাকা যায় না— কাজরীর যোগ্যতা নিয়ে তাই তদন্ত জরুরি।
এই মামলার মাঝেই শ্রাবন্তীর বিরুদ্ধে দায়ের হল এই গুরুতর অভিযোগ। এখন দেখার, আদালত ও প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।