বিচারপতি আরও বলেন, ‘‘নেটওয়ার্ক নেই, কাজ হচ্ছে না। স্টেশনারি কেনারও টাকা নেই জেলাগুলোর কাছে। শুধু আন্দামানে নাকি সব আছে! কিন্তু ওটা তো আমাদের মধ্যে পড়ে না।’’

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 17 September 2025 16:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাইকোর্টের (Calcutta High Court) লাগাতার চাপের মুখে অবশেষে কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের মোট ১৪টি প্রকল্পের বকেয়া ৫০ কোটি টাকা ছাড়তে অর্থ দফতরে ফাইল পাঠানো হয়েছে (Financial Difficulty) বলে জানালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। কিন্তু তাতে খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারলেন না বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ।
আদালতের প্রশ্ন, বাকি যে ৫৩টি ফাইল রাজ্যের কাছে বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর কী অবস্থা? সেগুলোর নিষ্পত্তি কবে হবে? এর জবাবে মুখ্যসচিব সাতদিন সময় চান।
জেলাগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়। বিচারপতির অভিযোগ, ‘‘প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ছিল প্রশাসনিক খরচের জন্য। মাত্র আড়াই লক্ষ দেওয়া হয়েছে, সেটাও শেষ হয়ে গেছে। নতুন টাকা দেওয়ার কোনও লক্ষণ নেই।’’
বিচারপতি আরও বলেন, ‘‘নেটওয়ার্ক নেই, কাজ হচ্ছে না। স্টেশনারি কেনারও টাকা নেই জেলাগুলোর কাছে। শুধু আন্দামানে নাকি সব আছে! কিন্তু ওটা তো আমাদের মধ্যে পড়ে না।’’
আদালত সূত্রের খবর, ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ হয়ে আছে ‘পেপারলেস হাইকোর্ট’ প্রকল্প। মুখ্যসচিব জানালেন, ‘‘দ্রুত কাজ শুরু করব। আমরা ক্লোজ মনিটর করছি।’’
এরপরই বেঞ্চ ফের জানতে চায়, হাইকোর্ট ও জেলা আদালতের জন্য অতিরিক্ত কর্মী দরকার। সেই সংক্রান্ত কাগজপত্র রাজ্যের কাছে পাঠানো হয়েছে আগেই। প্রশাসনিক বৈঠকে দুই অফিসার নিয়োগের কথাও বলা হয়েছিল। তার কী হল?
মুখ্যসচিবের উত্তর: “পে কমিশন সংক্রান্ত একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টে চলছে। সেটার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।”
এই উত্তরে আরও অসন্তুষ্ট বিচারপতি। প্রশ্ন তোলেন, “কী মামলা চলছে আমরা জানি না? আপনার মনে হয় না, এমন নজরদারি একেবারেই অপ্রত্যাশিত?”
শেষ পর্যন্ত মুখ্যসচিব আদালতের কাছে অনুরোধ করেন সাতদিন সময় দেওয়ার জন্য। তাঁর কথায়, “আমি গোটা বিষয়টা নিজে দেখছি। চেষ্টা করব, পরবর্তী শুনানিতে যেন আপনাদের আমাকে আর ডাকার দরকার না পড়ে।”
মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। দেখার বিষয়, সাত দিনের মধ্যে ‘ফাইল খুলে’ রাজ্য কিছু করে দেখাতে পারে কি না!