প্রকাশ্য সভা থেকে এমন ফরমানই জারি করলেন ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ বাহারুল ইসলাম।

ভাইরাল ভিডিওর অংশ বিশেষ।
শেষ আপডেট: 15 July 2025 20:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলীয় কর্মী খুনের প্রতিবাদে মিছিল। সেই মিছিলে ভিড় বাড়াতে ‘পুরস্কার’! আর ভিড় না হলে ‘শাস্তি’! প্রকাশ্য সভা থেকে এমন ফরমানই জারি করলেন ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ বাহারুল ইসলাম (Bhangar TMC Leader)। তাঁর এই ঘোষণার ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল (ভিডিওর সত্যতা দ্য ওয়াল যাচাই করেনি)। প্রশ্ন উঠছে, ‘পুরস্কার’ বলতে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন? ‘মাল’ শব্দটির অর্থ নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
মঙ্গলবার সামনে এসেছে ওই সভার ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বাহারুল ইসলাম বক্তব্য রাখছেন, পাশে বসে রয়েছেন পূর্ব ক্যানিংয়ের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। বাহারুল সাফ জানান, “যে বুথ থেকে যত বেশি লোক আসবে, সেই বুথকে আলাদা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। যারা লোক আনবে, তাদের মাল দিতে হবে। আর যারা লোক আনতে পারবে না, তারা মাল পাবে না।”
এই ‘মাল’ ঠিক কী? বাহারুলের বক্তব্যে সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। তবে তাঁর কথায় উঠে এসেছে পুজোর সময়ে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত। বলেন, “পুজোর সময়ে বিধায়ক আগে থেকেই বলে দিয়েছেন, এমন কোনও বাড়ি থাকবে না, যেটা বাদ যাবে।” ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সরকারি সুযোগসুবিধা দেওয়া নিয়েই হয়তো এই 'মাল'-এর কথা বলা হয়েছে।
তৃণমূল নেতা রজ্জাক খানের খুনের প্রতিবাদে বুধবার ভাঙড়ে একটি মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। বাহারুল জানান, প্রতিটি বুথ থেকে লোক বার করতেই হবে, বৃষ্টি হলেও মিছিল করতে হবে। মিছিলে কত লোক হল তার ভিডিও তুলে পাঠাতে হবে, কোন বুথ কত লোক এনেছে, তা যাচাই করা হবে।
বিজেপি এই ঘটনায় কড়া সমালোচনা করেছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “তৃণমূলের এখন সংগঠনে শূন্যতা। তাই ‘মাল’ দিয়ে লোক বার করতে হচ্ছে। এটা দুর্নীতির আর এক রূপ। প্রশাসন নিরপেক্ষ হলে, এই বক্তৃতার ভিত্তিতে শাস্তি হওয়া উচিত।”
তবে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। যদিও ঘরোয়া মহলে কেউ কেউ স্বীকার করছেন, এমন বক্তব্য দলের ভাবমূর্তির পক্ষে শুভ নয়।
এখন দেখার, এই 'মাল' বিতর্কে তৃণমূল কী অবস্থান নেয়। আর প্রশাসন তদন্তে নামে কিনা।