পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে ‘হবে না, হবে না, হবে না’ সংস্কৃতি চলছে, এমন অভিযোগ তুলে নাড্ডা বলেন, “এ বার থেকে হবে, হবে, হবে।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হবে না’-র রাজনীতির অবসান ঘটানোর আশ্বাস দেন তিনি
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 9 January 2026 13:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ বারের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Elections)) শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই নয়, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গে এসে দলীয় নেতা-কর্মীদের এমনই বার্তা দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা (JP Nadda)। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, এই লড়াইয়ে কোনও ‘যদি-কিন্তু’ নেই। পশ্চিমবঙ্গ জিততেই হবে (Fight for national interests, not politics)।
দু’দিনের রাজ্য সফরের প্রথম দিনেই একের পর এক সাংগঠনিক বৈঠকে নাড্ডা বুঝিয়ে দেন, কেন এ বার বাংলার ভোট বিজেপির কাছে ব্যতিক্রমী গুরুত্ব পাচ্ছে। সূত্রের খবর, দলীয় বৈঠকে নাড্ডা বলেন, “এটা আর শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়। এটা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াই।” তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘জাতীয় স্বার্থ’-এর প্রসঙ্গ।
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে ‘হবে না, হবে না, হবে না’ সংস্কৃতি চলছে, এমন অভিযোগ তুলে নাড্ডা বলেন, “এ বার থেকে হবে, হবে, হবে।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হবে না’-র রাজনীতির অবসান ঘটানোর আশ্বাস দেন তিনি। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট নির্দেশ, বিধানসভা নির্বাচনে জয় ছাড়া অন্য কোনও লক্ষ্য যেন মাথায় না থাকে।
বৃহস্পতিবার বিধাননগর সেক্টর ফাইভে বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, দলের পাঁচ সাধারণ সম্পাদক, দুই সংগঠন সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকেরা। জেলা সভাপতি ও আহ্বায়কদের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক পরামর্শ দেন নাড্ডা। জানা গিয়েছে, বিজেপিশাসিত রাজ্যের ৪৩ জন মন্ত্রীকে বাংলার ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার ভোট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মধ্য দিয়েই বিধানসভা নির্বাচনের গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছেন তিনি।
নাড্ডার বক্তব্য অবশ্য বিচ্ছিন্ন নয়। সম্প্রতি বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষও একই সুরে বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির কাছে শুধুই ক্ষমতার লড়াই নয়, ‘সভ্যতা রক্ষার লড়াই’। তাঁর কথায়, ভারতকে রক্ষা করতে হলে পশ্চিমবঙ্গ জিততেই হবে।
গত ডিসেম্বরের শেষে রাজ্য সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও একই বার্তা দিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার থাকলে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোখা যাবে না, এই অভিযোগ তুলে শাহ বলেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গড়া জরুরি। বৃহস্পতিবার নাড্ডার বক্তব্যে সেই কথাই আরও স্পষ্ট ভাবে ফিরে এল।
সব মিলিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা এক, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন এ বার শুধু রাজ্যের নয়, দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গেই জড়িয়ে।